পাশ ও জিপিএ-৫ দুটোই বেড়েছে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২২:০১

গত বছরের ধাক্কা কাটিয়ে এবার ভালো ফল করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতবারের চেয়ে এবার পাস করেছেন ৭ শতাংশেরও বেশি। আর জিপিএ-৫ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত দুই বছরে পাসের চেয়ে এবারের পাসের হার বেশি। গতবারের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিপলন ২৯ হাজার ২৬২ জন। ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। অবশ্য ২০১৬ সালে এই পরীক্ষায় পাস করেছিলেন ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন।

দশটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার এ ফল গতকাল বুধবার সারাদেশে একযোগে প্রকাশ করা হয়। গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল প্রকাশের ১৯তম বছরে এবারও সব বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

দুপুরে  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ             সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফল হস্তান্তর করেন। তার সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনসহ শিক্ষা বোর্ডসমূহের চেয়ারম্যানরা।

কলেজগুলোর পাশাপাশি ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফল জানতে পারেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভালো ফল অর্জন করা কলেজগুলোতে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। হৈ-হুল্লোড় করে হাতে হাত রেখে নেচে-গেয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এরমধ্যে পাস করেছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে  অংশ নেন ১১ লাখ ২৬ হাজার ১২৬ জন। পাস করেছেন ৯ লাখ ৯ হাজার ১৪৯ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।  জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ হাজার ৮০৭ জন। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়েছে।

এবার মাদ্রাসা বোর্ডে ৮৬ হাজার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ন হন ৭৬ হাজার ২৮১ জন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। মাদ্রাসার ৬১৫ টি প্রতিষ্ঠান থেকে সবাই পাস করেছেন। আর ৭ টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেননি।

কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে এবার ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২০ জন অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেন ১ লাখ ২ হাজার ৭১৫ জন। পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। ১২১ টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছেন ।

বিভিন্ন বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ৫

ঢাকা বোর্ড : পাসের হার ৭১ দশমিক ০৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮ হাজার ১৮৭ জন। রাজশাহী বোর্ড: পাসের হার ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭২৯ জন। কুমিল্লা বোর্ড: পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৩৭৫ জন। যশোর বোর্ড: পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ৩১২ জন। চট্টগ্রাম বোর্ড : পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ,  জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬০ জন। বরিশাল বোর্ড: পাসের হার ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০১জন। সিলেট বোর্ড: পাসের হার ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৯৪ জন। দিনাজপুর বোর্ড: পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ,  জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৯ জন। মাদ্রাসা বোর্ড: পাসের হার ৮৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩৬ জন।