টানা দুইবার খারাপ ফলের পর এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৭৪ শতাংশের বেশি। কিন্তু এরপর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ ও ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও ছিল কম। গতবারের চেয়ে পাসের হার ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিপিএ-৫ ২৯ হাজার ২৬২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গত দুই বছর খারাপ ফলের নেপথ্যে ছিল ইংরেজি ও আইসিটি। এবার ভালো ফলের পেছনেও এই দুটি বিষয় কাজ করেছে।
২০১৮ সাল থেকে খাতা দেখার নতুন পদ্ধতি চালু করে মন্ত্রণালয়। ওই পদ্ধতিতে প্রশ্নের একটি সাধারণ উত্তর প্রস্তুত করে পরীক্ষকদের দেওয়া হয়। এটাকে মানদন্ড ধরে শিক্ষকরা নম্বর দিয়ে থাকেন। গতবার এ পদ্ধতিতে শিক্ষকরা ততটা অভ্যস্ত হতে পারেননি। এবার এ বিষয়ে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ‘নতুন পদ্ধতির কারণে ২০১৮ সালে ফল খারাপ হয়’ এ বিষয়টি এবার ঘটেনি। এছাড়া ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে গতবারের চেয়ে এবার বেশি পাস করেছে।
পাসের হার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছর যশোর বোর্ডে ইংরেজিতে পাস করেছিল ৬৫ শতাংশ। কিন্তু এবার পাস করেছে ৯৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গতবার ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে পাস করেছে ৭৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এবার পাস করেছে ৭৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
এছাড়া পাসের হার বৃদ্ধির নেপথ্যে কাজ করেছে কুমিল্লা বোর্ড। চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায়। গত বছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪২ এবং ২০১৭ সালে এ হার ছিল ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। এবার পাসের হার এ বোর্ডে ৭৭ দশমিক ৭৪ ভাগ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ভালো ফলের বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুস ছালাম বলেন, ২০১৭ সালে আইসিটি ও ইংরেজি বিষয়ে খারাপ করার কারণে আমরা পিছিয়ে গেছি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক করে কর্মপন্থা ঠিক করেছি। অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এসব কারণেই আমরা এবার দেশের সেরা অবস্থানে উঠে আসতে সক্ষম হয়েছি।
যশোর বোর্ডে এবার পাস করেছে ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬০ দশমিক ১০ শতাংশ। বেড়েছে ১৫ শতাংশেরও বেশি। নেপথ্যের কারণ হিসাবে দুটি তথ্য জানালেন যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র । তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের ফরম পূরণ করতে দেয়নি। ফলে নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় পাসের হার বেড়েছে। এছাড়া স্কুলপর্যায়ে প্রশ্নব্যাংকের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া এসএসসির প্রথম ব্যাচটি উত্তীর্ণ হয়েছিল ২০১৭ সালে। ওই শিক্ষার্থীরাই এবার এইচএসসিতে অংশ নিয়েছে। এটিও ভালো ফলাফলের আরেকটি কারণ।
মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার গত বারের চেয়ে ১০ শতাংশ বেড়েছে। এবার মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। পাসের হার বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ বলেন, মাদ্রাসা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭ শতাংশ পাসের হার বেড়েছে। আইসিটিতেও বেড়েছে ২ শতাংশ। আরবী কঠিন বিষয়। এ বিষয়েও ৩ শতাংশ পাসের হার বেড়েছে। এসব মিলেই বোর্ডের ফল ভালো হয়েছে।
