জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সরকারি সেবাগুলো সহজে ও দ্রুততম সময়ে জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে চাই আমরা। আর সে লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের টার্গেট প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি সেবা মানুষের মোবাইলে থাকবে; আঙুলের সামনে থাকবে। গতকাল বুধবার তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করার গেটওয়ে ‘পরিচয়’ (www.porichoy.gov.bd) উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, সরকারি সেবা পেতে জনগণকে যেন সরকারি অফিসগুলোতে যেতে না হয় তা আমার স্বপ্ন। তারই একটি অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের সঙ্গে পার্টনারশিপ করে আমাদের এই সফল উদ্যোগ। জনগণের তথ্যসমৃদ্ধ একটি জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইসিটি বিভাগকে ধন্যবাদ জানান সজীব ওয়াজেদ জয়।
আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরীসহ আইসিটি বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে সরকার বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবাকে ডিজিটাল করছে। তেমনই এক যুগান্তকারী সেবা হচ্ছে ‘পরিচয়’। দীর্ঘদিন ধরেই তার নেতৃত্বে ‘পরিচয়’ নিয়ে কাজ করছিলাম আমরা। আজ সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত হলো। আমরা সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারি সেবাগুলো মানুষের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসতে কাজ করে যাচ্ছি। এরই বহিঃপ্রকাশ এ ধরনের সেবা।
‘পরিচয়’ হচ্ছে একটি গেটওয়ে সার্ভার, যা নির্বাচন কমিশনের জাতীয় ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং, যা সরকারি-বেসরকারি বা ব্যক্তিগত যে কোনো সংস্থার গ্রাহকদের, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করে নিমেষেই সেবা দিতে পারবে। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা পোর্টালটিতে নিবন্ধের মাধ্যমে এবং নির্দিষ্ট ফি দেওয়া সাপেক্ষে কোনো নাগরিকের এনআইডি তথ্য যাচাই করতে পারবেন। এনআইডিতে একজন নাগরিকের প্রায় ২৫ ধরনের তথ্য থাকলেও এনআইডি নম্বর থেকে পাঁচ-ছয়টি তথ্য যাচাই করা যাবে এই ওয়েবসাইটে। এগুলো হচ্ছে—নাগরিকের নাম, বাবা ও মায়ের নাম-ঠিকানা, জন্ম তারিখ ইত্যাদি। তবে এসব তথ্য পেতে কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিকে কত টাকা ফি দিতে হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি সব সংস্থা পরিচয় নিশ্চিত হতে পারবে। আগের মতো তিন থেকে পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে হবে না।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘চমত্কার একটা ন্যাশনাল আইডি সিস্টেম কাজ হয়েছে, যেখানে বায়োমেট্রিক ইনফরমেশনও আছে নাগরিকদের।’ তিনি আরো বলেন, ‘আস্তে আস্তে আমাদের যত সরকারি সেবা এবং বেসরকারি যত সেবা নতুন নতুন ডিজিটালাইজড হচ্ছে, তারা যখন নাগরিককে সার্ভিস দিতে যান, তখন নাগরিকের সেই পরিচয়, আসলে এটা সেই ব্যক্তি কি না? এই এনআইডিটি কি সত্য, এটা কি আসলেই তার নাম, এই ভেরিফিকেশনটা করার প্রয়োজন দাঁড়িয়ে যায়। অনেকদিন ধরে আমরা চেষ্টা করতে করতে এখন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে আজকে আমাদের আইসিটি মিনিস্ট্রি এটা করতে পেরে খুবই আনন্দিত। এই সার্ভিস আজকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য দিতে পেরে।’
