বাগাতিপাড়ায় মা-মেয়ের একসঙ্গে এইচএসসি পাস

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২২:১১

চলতি বছর নিজের মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার মাসুমা খাতুন। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন জিপিএ ৪ দশমিক ১৩। আর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রাজশাহী সরকারী মহিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। মাসুমা ন বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা বিএম কলেজের সেক্রেটারিয়েল সায়েন্স ট্রেডের ছাত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি মেয়ের সঙ্গে একই বছরে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ২০১৭ সালে উভয়ে এসএসসি পাশ করেন। এবারও একসঙ্গে উত্তীর্ণ হলেন। ভালো ফল করায় তাদের বাহবা দিচ্ছে সহপাঠী ও  শিক্ষকরা।

মাসুমা খাতুনের বাবার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে। তার স্বামী আব্দুল মজিদ গাজিপুরে আনসার ব্যাটালিয়নে সিপাহি (প্রশিক্ষক) পদে চাকরি করেন। মাসুমার বড় ছেলে বনি আমিন বাগাতিপাড়া সরকারি ডিগ্রী কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র।  এ ব্যাপারে মাসুমা বলেন, বিয়ের ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। পিঠাপিঠি দুই ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে গিয়ে নিজের পড়ার কথা ভাবারই সময় পাইনি। অবশেষে সেই আশা পূরণ হলো।

উত্তীর্ণ হলেন মলি রানীও:অন্যদিকে, বয়সের বাধাকে উপেক্ষা করে বাগাতিপাড়ায় ২০১৭ সালে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আলোচিত সেই মা মলি রাণী ৩৭ বছর বয়সে এবার এইচএসসি পাস করেছেন। বুধবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি জিপিএ ৩ দশমিক ৯৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। চলতি বছর বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে  তিনি অংশ নেন। ছেলে মৃন্ময় কুমার কুন্ডু এস.এস.সি পাসের পর নাটোরে টিএমএস পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হয়ে বর্তমানে চতুর্থ সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে।