দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিভাগীয় মহাসমাবেশ শুরু করছে বিএনপি। বরিশাল ঈদগাহ মাঠে আজ বেলা ৩টায় মহাসমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেবেন। আগামী ২০ জুলাই শনিবার চট্টগ্রামে এবং ২৫ জুলাই খুলনায় মহাসমাবেশ হবে। এরপর রাজশাহীতে হবে সমাবেশ। সর্বশেষ ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। দলের নেতারা জানিয়েছেন, আজ বরিশালে মহাসমাবেশের অনুমতি নিয়ে সংশয়ে ছিলেন তারা। তবে গতকাল শেষ মুহূর্তে পুলিশ অনুমতি দিয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, দলের পক্ষ থেকে বরিশালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশের স্থান বেলস পার্কে অনুমতি চাইলেও তা দেয়া হয়নি। টালবাহানা করা হয়েছে। নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠের আঁটোসাঁটো জায়গায় সমাবেশ করতে বলেছে পুলিশ। একটি মহাসমাবেশের জন্য এই স্থান পর্যাপ্ত নয়। এদিকে বরিশালে অনুমতি লাভের কারণে চট্টগ্রাম ও খুলনায় অনুমতি পাবেন বলে সেখানকার নেতারা আশা করছেন। এক সপ্তাহ আগে অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও কোনো সাড়া দিচ্ছে না প্রশাসন।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, তিন বিভাগে মহাসমাবেশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল প্রতিনিধি দল বিভাগীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাত্ করেছেন। তবে সবখানেই কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। টালবাহানা করা হচ্ছে। ফলে পোস্টার-লিফলেট-ব্যানার-মাইকিংসহ প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবে রহমান শামীম বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একটি সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যে দল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে সমাবেশ সফল করতে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রস্তুতি সভাও করছি। আগামী ২০ জুলাই এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন নির্ধারিত রয়েছে। আমাদের অনুমতি দেওয়া নিয়ে এখনো কালক্ষেপণ করছে প্রশাসন। খুলনা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। শহিদ হাদিস পার্কে মহাসমাবেশ করতে অনুমতি চেয়েছি পুলিশের কাছে। কিন্তু এখনো অনুমতি দেয়নি। ফলে আমরা ব্যানার-পোস্টার করতে পারছি না। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, রংপুরে সমাবেশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ না হলেও প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে সমাবেশ করতে পারব।
সংবাদ সম্মেলনে বাধার অভিযোগ
বরিশাল অফিস জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৩টায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশ উপলক্ষে গতকাল বুধবার নগরীর সদর রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা ও মহানগর বিএনপি। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, সমাবেশ বানচাল করতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা তাদের নেতাকর্মীদের বাধা ও হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা বিসিসির সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু, উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার প্রমুখ।
