জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, বেলারুশ এবং উত্তর কোরিয়া এতে সম্মতি দেয়নি।
সোমবার জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে কিয়েভ-সমর্থিত প্রস্তাবের পক্ষে ৯৩টি দেশ ভোট দেয়, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৮টি এবং চীনসহ ৬৪টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাব
প্রস্তাবে রাশিয়াকে অবিলম্বে ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয় এবং মস্কোকে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করার কথা বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে নিজস্ব একটি পাল্টা প্রস্তাব দেয়, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হলেও রাশিয়াকে আগ্রাসনকারী হিসেবে স্বীকার করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা প্রস্তাবের পক্ষে ৯৩টি ভোট পড়ে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংশোধনীতে রাশিয়ার নিন্দা জানানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে, আর রাশিয়া এর বিরুদ্ধে ভোট দেয়।
ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেন। এমনকি তিনি ভুলভাবে দাবি করেন যে, ইউক্রেনই যুদ্ধ শুরু করেছিল।
তবে পরবর্তীতে নিজের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া হামলা চালিয়েছে, তবে ইউক্রেনকে সেটি হতে দেওয়া উচিত হয়নি।” একইসঙ্গে তিনি জেলেনস্কির পদত্যাগেরও আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে ইউক্রেনের কড়া বার্তা
জাতিসংঘে ইউক্রেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়ানা বেটসা বলেন, ‘‘রাশিয়া জাতিসংঘের চার্টার লঙ্ঘন করেছে এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই ভয়াবহ যুদ্ধ তিন বছর ধরে চলমান। এটি শুধু ইউক্রেনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানাই যে, তারা ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির পক্ষে অবস্থান নিক।’’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ডরোথি শি বলেন, ‘‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বহু প্রস্তাব পাস হলেও যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। এটি ইউক্রেন, রাশিয়া এবং বিশ্ববাসীর জন্য ভয়াবহ মূল্য বহন করছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের এমন একটি প্রস্তাব প্রয়োজন, যা যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির জন্য জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করবে।’’
