মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চ্যাপো’ গুজমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। একইসঙ্গে তাকে অতিরিক্ত ৩০ বছরের জেল এবং জরিমানা হিসেবে ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল কোর্টে মাদক ও অর্থ পাচারসহ মোট ১০টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।
গুজমানের মাদক পাচার ও অপরাধ চক্র ‘সিনালোয়া কার্টেল’ মেক্সিকো ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে কোকেন, হেরোইন, মারিজুয়ানাসহ বিভিন্ন প্রকারের মাদক পাচারের জন্য কুখ্যাত। এছাড়া তার ‘হিটম্যান’রা গত কয়েক দশকে শত শত লোককে হত্যা, অপহরণ এবং নির্যাতন করেছে। গুজমান দুইবার মেক্সিকোর সবচেয়ে সুরক্ষিত কারাগার থেকে পালাতে সক্ষম হন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে টানেল করে কারাগার থেকে পালান তিনি। পরে আবার ধরা পড়লে ২০১৭ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিচার চলাকালে আদালতে তার বিরুদ্ধে সাবেক প্রধান সহযোগী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গতকাল রায় ঘোষণার সময় আদালত তাকে বড়ো ধরনের পাপী বলে আখ্যায়িত করেন। গুজমান যে সব অপরাধ করেছেন তার বিচারে ন্যূনতম সাজা হিসেবেই তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাকে কলোরাডোর ফ্লোরেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত কারাগারে রাখা হবে। এ বিষয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, গুজমান ‘টন টন স্টিলের পেছনে’ কারাভোগ করবেন। আমরা নিশ্চিত করছি যে, তিনি বাকি জীবনের প্রতিটি মিনিট কারাগারে থাকবেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গুজমান আবেদন করবেন কি না তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তবে রায় ঘোষণার আগে প্রায় ১০ মিনিট ব্রুকলিনের আদালত কক্ষে কথা বলেন গুজমান। তিনি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিচার নেই। কারাগারে তাকে আটকে রেখে ২৪ ঘণ্টাই মানসিক নিপীড়ন করা হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার পাননি।
‘এল চ্যাপো’ বা ‘পিচ্চি’ নামে পরিচিত ৬২ বছর বয়সি গুজমান গত কয়েক দশকে বিশ্বের সবচেয়ে সুগঠিত ও অন্যতম ক্ষমতাশালী অপরাধী চক্রের ‘বস’ হয়ে উঠেছিলেন, এমনকি ২০০৯ সালে ফোর্বস সাময়িকীতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোটিপতিদের তালিকায় তার নামও উঠেছিল।
