বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (বাংস্থবক) আওতাধীন রামগড় স্থলবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজ শুরু করেছে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আগামী ১৭ দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রামগড় স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। কমিটির আহব্বায়ক নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দলটি রামগড় স্থলবন্দরের চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনের পাশাপাশি পুরো বন্দর এলাকা ঘুরে দেখেন।
রামগড় স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা স্থলবন্দরের সঙ্গে ত্রিপুরার সাব্রুম স্থলবন্দরের সম্ভাব্য কার্যক্রম সম্পর্কে দলটিকে অবহিত করেন। পরে স্থলবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে রামগড়ের বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রতিনিধি দল।
কমিটির আহ্বায়ক নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রামগড় স্থলবন্দরের চলমান উন্নয়ন কাজসহ খুঁটিনাটি সব কিছু পর্যবেক্ষণ করেছি। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বন্দর সম্পর্কে জেনেছি। একইভাবে বৃহস্পতিবার ফেনীর বিলোনিয়া স্থলবন্দর পরিদর্শন করবো। পরে কমিটির বৈঠকে সবকিছু পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টার কাছে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদন পেশ করা হবে।’
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বাস্থবকের সদস্য ট্রাফিক (যুগ্ম সচিব) মো. শামীম আলমসহ প্রতিনিধি দল ও বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি বিলোনিয়া ও রামগড় স্থলবন্দর সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক)। সদস্য হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, অর্থ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছ।
মূলত গত ১২ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এই কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
গঠিত কমিটি বিলোনিয়া ও রামগড় স্থলবন্দর সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্দরসমূহের ভৌগোলিক অবস্থান, আন্তদূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, রাজস্ব আয়, এসব স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী আগমন ও বহির্গমন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করে মতামত দেবে। এছাড়া বর্ণিত বন্দরসমূহ ব্যবহারকারী পক্ষসমূহের বিদ্যমান এবং সম্ভাবনাময় আমদানি-রপ্তানি পণ্য, পরিমাণ এবং পক্ষসমূহের অর্থনৈতিক সুফল ভোগের বিষয়ে বন্দরভিত্তিক তুলনামূলক পর্যালোচনাপূর্বক মতামত দিতে বলা হয়েছে।
