প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার সশস্ত্রবাহিনীকে আরো উন্নত এবং বিশ্বমানের বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’র (পিজিআর) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ। আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব সশস্ত্রবাহিনীর ওপর ন্যস্ত। স্বাভাবিকভাবেই জাতির পিতা একটি স্বাধীন দেশের উপযুক্ত সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, তাকে আরো উন্নত এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্নভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আমাদের সবসময় রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসামান্য দূরদর্শিতায় এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সকলকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকে এই গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যরা যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পেশাগত প্রয়োজনে পিজিআর সদস্যদের সঙ্গে প্রতিদিন সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদেরকে তাঁর পরিবারের সদস্য হিসেবেও মনে করেন।
তাঁর সরকারই পিজিআর সদস্যদের জন্য প্রথম ঝুঁকি ভাতার প্রবর্তন করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিরাপত্তা প্রদান করবে, তাঁদের নিরাপত্তার কথাটাও আমাদের ভাবতে হবে। তাছাড়া এর সদস্যদের বাসস্থানের জন্য একটি ১৪-তলা বহুতল ভবন নির্মাণ কার্যক্রম চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে এই দেশ গড়ে উঠেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ বিশ্বে একটি সম্মানজনক জায়গা করে নেবে, আমরা সবসময় সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধিকে ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদ্যাপন করবো। আর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপন করবো ২০২১ সালে। তখন বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। ১৭ মার্চ ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়কে তাঁর সরকার ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলে একটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। আমরা যে সেটা পারি, তা সরকারের গত ১০ বছরের শাসনামলে সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা নিজস্ব স্যাটেলাইটও উেক্ষপণ করেছি (বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট)। যার ভিত্তি জাতির পিতা রচনা করে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে পিজিআর সদরদপ্তরে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম তাঁকে স্বাগত জানান। পিজিআর’র একটি সুসজ্জিত দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। প্রধানমন্ত্রী পিজিআর’র সকল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে আত্মোত্সর্গকারী পিজিআর’র বীর সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে অনুদান এবং উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ারমার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মাদ জাভেদ পাটওয়ারী, প্রেসসচিব ইহসানুল করিম এবং উচ্চপদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আইএসপিআর’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এর ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর (দ্বিতীয় দিন) যথাযথ উত্সাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে। সকালে রেজিমেন্ট মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া এবং পরে কোয়ার্টার গার্ডে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন করার মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়।
