কোথায় গেল ব্যাংকের এত টাকা :প্রশ্ন ব্যবসায়ী নেতার

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:৩৭

ব্যাংকের তারল্য সংকট ও উচ্চ সুদের হার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুই বছর আগেও শুনেছি, ব্যাংকে টাকা রাখার জায়গা নেই। এখন টাকা পাই না কেন? টাকা কোথায় গেল। এটা কি বের করা যায় না? গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে শুল্ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন বিষয়ক কর্মপরিকল্পনার প্রকাশনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদ্য সাবেক এই সভাপতি বলেন, ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। দেশে বিদ্যমান ব্যবসায়ের পরিবেশ নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ের সহজ করার সূচকে ছিলাম ১৭৫তম, এখন হয়েছি ১৭৭তম। আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। ব্যবসা সহজ করার দায়িত্ব সরকারের। এজন্য ব্যবসায়ীরা ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়। বন্দর, শুল্ক ব্যবস্থাপনাসহ ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য দেশ বিমানে পণ্য পাঠাতে প্রতি কেজি ৭ সেন্ট করে খরচ হলেও আমাদের হচ্ছে দ্বিগুণ। ঢাকা এয়ারপোর্টের সক্ষমতার অভাবে কলকাতা বিমানবন্দরের মাধ্যমে পাঠাতে হচ্ছে। এতদিনেও কেন সব জায়গায় প্রয়োজনীয় স্ক্যানার বসাতে পারলমান না? স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের বিশাল বিনিয়োগ নিতে পারিনি। সেই বিনিয়োগ ভিয়েতনামে যাওয়ার পর এখন তাদের মাধ্যমেই ৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করে ভিয়েতনাম।

তিনি বলেন, অন্যায় করলে উভয় পক্ষের (ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যারা সঠিকভাবে ব্যবসা করে, তাদের সহযোগিতা করুন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঐ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ অনুষ্ঠানে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান শুল্কায়নসহ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার আধুনিয়কায়ন ও প্রযুক্তিতে সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনের উপর গুরুত্ব দেন। তিনি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জায়গায় বদলিতে তদবিরকে ইঙ্গিত করে বলেন, কারা কাজ করছে বা করছে না— আর কারা কোনদিকে পোস্টিং নেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেটি খেয়াল করব। শুল্ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের নেওয়া প্রকল্পের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রকল্প শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আমরা আমাদের জায়গায়ই রয়ে যাব— তা কাম্য নয়।

নতুন ভ্যাট আইনে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভার (বিক্রি) ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এর পরবর্তী তিন কোটি টাকা পর্যন্ত বিক্রিতে ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা খেয়াল করছি, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তিন কোটি টাকার নিচে টার্নওভারে চলে আসতে চাইছে। এটি হতে পারে না।

ড. মসিউর রহমান ব্যাংকে তারল্য সংকটের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সমস্যা অন্যখানে। এক্ষেত্রে স্প্রেডের (ঋণ ও আমানতের সুদের হারের পার্থক্য) বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে টাকা থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু তাতে মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এটি জটিল বিষয়।

যৌক্তিক ও স্থিতিশীল শুল্ক-কর কাঠামোয় গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী ৫ শতাংশ শুল্ক হিসাবে পরিকল্পনা করে ব্যবসায়ে নামলেন। কিন্তু এক বছর পরে দেখলেন, তা ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। এতে তার হিসাবের পরিকল্পনায় ভুল হয়।   

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনবিআর সদস্য খন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. মাশরুর রিয়াজ, ডিএফআইডির প্রতিনিধি মাশফিক ইবনে আকবর প্রমুখ।