প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ভালোবাসার পাশাপাশি দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সব সময় ভালোবাসবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসবে এবং দেশকে গড়ে তোলার জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করবে। নিজের জীবনকে যেমন সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে, পাশাপাশি এই দেশকেও গড়ে তুলবে। গতকাল বুধবার গণভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০১৯’-এর জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত ১২ জন সেরা মেধাবীকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষা হচ্ছে একধরনের আলো, যা মানুষকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। সেই আলো থেকে যেন এদেশের কোনো ছেলেমেয়ে বঞ্চিত না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্যপূরণে নানা নীতিমালাও আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকৃত বা মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে যার শিক্ষাজীবন শুরু হয়, তার জীবনটাও মিথ্যা হয়ে যায়, সেভাবে উত্কর্ষ সাধন বা বিকাশ লাভ করতে পারে না। সে জন্য এই বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মেধা অন্বেষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিম্নমাধ্যমিক পর্যায় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে মোট ১২ জনকে বছরের সেরা মেধাবী নির্বাচন করা হয়। ভাষা ও সাহিত্য, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ—এই চারটি ক্যাটাগরিতে এসব মেধাবীকে পুরস্কৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রত্যেককে সনদ, মেডেল ও ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসেইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও বক্তৃতা করেন। এছাড়া পুরস্কার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে পারশিয়া নাওয়ার তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল যথেষ্ট ভালো ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের প্রশংসা করে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা মনোযোগী হলে ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফল করতে পারবে। তিনি বলেন, ৭৩ দশমিক ৯৩ ভাগ পাশ করেছে। এটা যথেষ্ট ভালো এবং গ্রহণযোগ্য হয়েছে। গতকাল সকালে গণভবনে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মাত্র ৫৫ দিনে ফল প্রকাশ করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ছাত্রীদের পাশের হার বেশি হওয়ায় জেন্ডার সমতার কথা স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রদেরও পাশের হারটা বাড়াতে হবে, যাতে জেন্ডার সমতাটা এসে যায়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পরে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বর্তমান সরকারের বিজ্ঞান, কারিগরি ও কম্পিউটার শিক্ষা সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ’৯৬ সালে তাঁর সরকারের আমলে দেশে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, একটি শিক্ষিত জাতি পারবে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে উন্নত-সমৃদ্ধভাবে গড়ে তুলতে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসেইন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
