যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংস্থাগুলো থেকে প্রায় ৬৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার লক্ষ্য নিয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হয় সেই প্রক্রিয়া। রাতারাতি ৮০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিদেশে উন্নয়ন ও সহায়তা কর্মসূচি ইউএসএআইডির বাজেট নাটকীয়ভাবে হ্রাস করা হয়েছে। সেখানে বহু বছরের চুক্তিগুলোর ৯২ শতাংশ বা ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমিয়ে ফেলা হয়েছে।
মার্কিন সমুদ্র ও পরিবেশ সুরক্ষা এজেন্সি এনওএএ (ন্যাশনাল ওশেনিক এবং অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-এর ৮০০ কর্মীকে রাতারাতি ছাঁটাই করেছে ট্রাম্পের সরকার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছিলেন যে, তার প্রশাসন পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংস্থাগুলো থেকে প্রায় ৬৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি লি জেল্ডিনের (পরিবেশ রক্ষা বিভাগের মুখ্য প্রশাসক) সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি মনে করেন যে, পরিবেশ সংক্রান্ত দপ্তরগুলো থেকে ৬৫ বা তার বেশি শতাংশ কর্মীকে ছাঁটাই করা যায়।’ ৮০০ কর্মী ছাঁটাই সেই প্রক্রিয়ারই প্রথম ধাপ বলে মনে করছেন অনেকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্র, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ, আবহাওয়া দপ্তর এবং অন্য গবেষণা ক্ষেত্রগুলোতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞসহ আরো কর্মী ও কর্মকর্তাদের ট্রাম্প সরকার ছাঁটাই করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের গোড়ায় ট্রাম্প সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) প্রায় ৪ হাজার ২০০ কর্মীকে ছুটিতে পাঠিয়েছে এবং ১ হাজার ৬০০ কর্মীকে চাকরি বরখাস্ত করেছে। ব্যয়সংকোচের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ বলে ট্রাম্প সরকার জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্সিগুলোতে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া হাজারো কর্মচারীকে গণবরখাস্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট জজ উইলিয়াম আলসুপ শুনানিকালে বলেন, কোনো কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করতে ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের (ওপিএম) নেই।
