জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মালিককে ঘরে বন্দি রেখে এক হাজার পেয়ারা গাছ এবং ৫শ’ কলা ও পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। পেয়ারা বাগানের মালিক (বন্ধকী সূত্রে) নূরুল ইসলাম দাবি করেছেন, এই ঘটনায় তার ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নরসিংদী জেলার রায়পুরায় এই ঘটনা ঘটেছে। গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন একই বাড়ির বাসিন্দা প্রতিপক্ষ রফিক ভেন্ডার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেয়ারা বাগানের মালিক (বন্ধকী সূত্রে) নুরুল ইসলাম ওরেফে নুরু মিয়া গাছ আঁকড়ে ধরে কাঁদছেন। নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘জমি নিয়ে সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু আমার গাছের কী অপরাধ? আমার দশ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমার এখন পথে বসার অবস্থা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
জমির মূল মালিক মৃত আব্দুল রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে মোসা. মজিদা বেগম বলেন, ‘পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছি। আমার দুই ভাই দেশের বাইরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। তাই স্থানীয় নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু মিয়ার কাছে জমি বন্ধক দিলে তিনি নিজ খরচে পেয়ারা, কলা ও পেঁপেগাছসহ বিভিন্ন ফলজ চাষাবাদ করে আসছেন। এরই মধ্যে একই বাড়ির প্রতিপক্ষ রফিক ভেন্ডারসহ আরও কয়েকজন আমাদের জমিতে দাবিদার জানিয়ে আমাদের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করেন। উক্ত ঘটনায় আদালতে মামলা করলে তারা আমাদের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়। এরই জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে আমাদের বন্ধককৃত জমিতে রফিক ভেন্ডারের নেতৃত্বে শতাধিক লোক এলোপাতাড়িভাবে প্রায় এক হাজার পেয়ারা গাছ, ৫শ’ কলা ও পেঁপে গাছ কেটে তাদের বাড়ি নিয়ে যান। এসময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা আমাদের নিজ বসতঘরে বন্দি করে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় উক্ত ঘটনায় থানায় মামলার জন্য গেলে এই ফাঁকে বসতঘরে হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট করে আলমারীর ভেতরে থাকা স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট করে।’
এদিকে অভিযুক্ত রফিক ভেন্ডার গাছ কাটার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘জমিতে আমার অংশ রয়েছে। তাই গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছি।’
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার এসআই মাসুদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, ফলজ গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতা দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। তাজা ফলন্ত এসব গাছ যারা কেটেছে, তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
