বর্তমান সময়ে টিভি পর্দার বেশ পরিচিত মুখ আবিদ আহমেদ শান। নিজের হাসি আর চুলের স্টাইলের জন্য যেমন আলাদা করে সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে, তেমনই জায়গা করে নিয়েছে নিজের প্রাণবন্ত অভিনয় দিয়েও। তারই কথা জানব আজ আমরা কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন—মুনতাসির সিয়াম
প্রথম অভিনয়ে কীভাবে আসা?
শান : ২০১৬ সালের দিকে এলজি রেফ্রিজারেটরের একটা বিজ্ঞাপনের মধ্যদিয়ে অভিনয় জগতে প্রথম আসা। বাবা যেহেতু মিডিয়া লাইনের সঙ্গে টুকটাক কাজ করেন, তাই বেশ ভালো পরিচিতিও রয়েছে। সেখান থেকে বাবার পরিচিতির সুবাদেই প্রথম বিজ্ঞাপনের অফার আসা।
বাড়িতে মেহমান আসার পর টিভিতে তোমার অভিনয় করা নিয়ে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখান?
শান :আমাকে টিভিতে দেখে সবাই ভীষণ খুশি হন। বলেন, এভাবেই যেন অভিনয় চালিয়ে যাই।
স্কুলের বন্ধুরা তোমার অভিনয় দেখে কী বলে?
শান :বন্ধুরা আমাকে টিভিতে দেখে বেশ আনন্দ পায়। অনেকে আমার মতো অভিনয় করতে বা শ্যুটিংয়ে যেতেও বেশ আগ্রহী।
তুমি যে অভিনয় কর—এটা জানার পর থেকে স্কুলের টিচারদের অনুভূতি কী? তাঁরা কি তোমাকে অন্যদের তুলনায় একটু বেশি আদর করেন এই প্রতিভার জন্য?
শান :সবাই অনেক আদর করেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিচারদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধাও পাই এর জন্য। আমি বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ি। ওখানকার একটা নিয়ম হচ্ছে চুল বড় রাখা যাবে না। কিন্তু অভিনয় করি বলে আমাকে বিশেষ সুযোগে চুল বড় রাখার অনুমতি দিয়েছেন তাঁরা। একজন টিচার বড় চুলের জন্য আমাকে ‘চুলি’ বলে ডাকেন।
প্রথম অভিনয়ের দিন অন্য কাউকে মা বলে ডাকতে কেমন লেগেছিল?
শান :আমি তো জানতামই ওটা অভিনয় ছিল। তাই খারাপ লাগেনি। বরং একেকসময় একেকজনের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক ধরে অভিনয় করতে মজা লাগে। পরবর্তী সময়ে উনারা অনেক আদর করেন।
বিপাশা হায়াতের সঙ্গে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে কেমন লেগেছে তোমার? তুমি কি জানতে উনি আমাদের দেশের কত বড় অভিনয়শিল্পী?
শান : খুব ভালো লেগেছে। আন্টি আমাকে অনেক আদর করেন। তবে জানতাম না উনি অনেক বড় শিল্পী। অভিনয় করার সময় আমার মতোই অভিনয় করছেন, এমনই মনে হয়েছে।
শ্যুটিংয়ের সময় তোমার সবচাইতে কোন জিনিসটি বেশি ভালো লাগে?
শান :নতুন নতুন জায়গায় ঘোরার সুযোগ পাই। স্কুলেও যেতে হয় না সেসময়।
বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও?
শান :পাইলট হতে চাই।
শ্যুটিংয়ের জন্য পড়ালেখায় কোনো অসুবিধা হয় না? ক্লাসের পড়াগুলো কীভাবে কর?
শান :অফ ডে-তে শ্যুটিং হলে তেমন অসুবিধা হয় না। অন্য সময় হলে একটু তো অসুবিধা হবেই। দুটোতেই মানিয়ে নিয়েছি।
সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যখন অভিনয় করেছ, তখন তাঁর সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কোনো গল্প হয়নি?
শান :অনেক গল্পই হয়েছে। আমি জানতে চেয়েছিলাম, তাঁর মতো ক্রিকেটার হতে চাইলে আমাকে কী করতে হবে। তখন তিনি বলেছেন, তুমি তো অনেক ছোট। আরেকটু বড় হয়ে নাও, এরপর ক্রিকেট খেলতে চাইলে কোচিং করতে পারবে।
সাকিব আল হাসান নাকি শান, কার অভিনয় বেশি সুন্দর?
শান : দুজনেরই সমান।
স্কুলের বন্ধুরা বা টিচাররা ক্লাসরুমে অভিনয় করে দেখাতে বলেছে কখনো?
শান :প্রায়ই বলে। বন্ধুরা, টিচাররা বা সিনিয়ররাও। প্রথম প্রথম ভাবতাম যে, শ্যুটিংয়ে যেটা করেছি সেটা একইভাবে এখানে কীভাবে করব! তবে তাদেরকে খুশি করার জন্য যতটুকু পারি অভিনয় করে দেখাতাম।
অভিনয় আর পড়াশোনা ছাড়া আর কী পারো?
শান :আমার বাবা ড্রামস বাজান। উনার থেকে কিছু বিট শিখেছি। এছাড়া নাচতে পারি। ইউটিউব দেখে দেখে শিখেছি সব নাচ।
শ্যুটিংয়ে মজার কোনো ঘটনা?
শান :শ্যুটিং করতে গিয়ে প্রথম কলার ভেলা দেখেছিলাম। ওই জিনিসটা আমার খুব ভালো লেগেছে। এর আগে কখনো ভেলায় চড়ার সুযোগ হয়নি।
তোমার প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী কারা?
শান :আমি যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছি তাঁদের মধ্যে বিপাশা আন্টি, মৌসুমী আন্টি, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ওনারাই আমার প্রিয়।
চকলেট, আইসক্রিম আর বই। এই তিনটির মধ্যে যদি একটি বেছে নিতে বলা হয়?
শান :অবশ্যই চকলেট।
হলিউডের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেলে কী করবে?
শান :অবশ্যই অভিনয় করব। কিছুদিন পর মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায় ঘুরতে যাব আমি। সেখানে গিয়ে হলিউড দেখে আসারও ইচ্ছা আছে।
টিভিতে নিয়মিত কোন অনুষ্ঠানগুলো দেখা হয় তোমার?
শান : কার্টুন। আর ভূতের সিনেমা দেখতেও খুব পছন্দ করি।
তোমার মতো ছোটরা যারা অভিনয়ে আসতে চায় তাদেরকে তুমি কী বলবে?
শান :আমার বয়সী আরো অনেকে অভিনয়ে আসুক সেটাই চাই। তাহলে ওদেরকে সবাই সেলিব্রেটি বলবে। ছবি তুলতে চাইবে। আবার আমারও অনেক নতুন বন্ধু হবে। এজন্য শ্যুটিংয়ের সময় আমি জেনে নিই, আমার বয়সী আরো কেউ আছে কি না সেখানে! যদি থাকে তখন খুব ভালো লাগে। একসঙ্গে খেলা যায়।
