চলছে মুসলিমদের সিয়াম-সাধনার পবিত্র মাস রমজান। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক সুস্থ মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তাই রোজা রেখেই খেলতে নামেন অনেক মুসলিম ক্রীড়াবিদ। কিন্তু চলমান আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলায় ব্যস্ত থাকায় রোজা রাখছেন না ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি।
সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফিল্ডিং করার সময় বাউন্ডারি লাইনে শামিকে দেখা গিয়েছে, এনার্জি ড্রিংকস পান করতে। এই ঘটনায় তোলপাড় চলছে ভারতের মুসলিম সমাজে। বেশ সমালোচিত হচ্ছেন পেসার শামি।
রোজা রেখে শামি অপরাধ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা শাহাবউদ্দিন রাজভি। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ‘মুসলিমদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। রোজা না রেখে শামি অপরাধ করেছে। তার এটা করা উচিত হয়নি। শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, সে একজন অপরাধী। এ জন্য তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’
শাহাবউদ্দিন রাজভি আরও বলেন, ‘কোনো সুস্থ নর-নারী (রমজান মাসে) রোজা না রাখলে ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অপরাধী হয়ে যাবেন। মোহাম্মদ শামি ভারতের বিখ্যাত ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব। সে ম্যাচ চলার সময় পানি বা কোমল পানীয় জাতীয় কিছু পান করেছে। সবাই তা দেখেছে। যেহেতু সে খেলেছে, এর মানে সে সুস্থ। এরপরও রোজা না রাখলে তা মানুষকে ভুল বার্তা দেয়।’
তবে শাহাবউদ্দিন রাজভির এই কথার বিরোধিতা করেছেন অল ইন্ডিয়া ব্যক্তিগত মুসলিম আইন বোর্ডের কার্যনির্বাহী সদস্য মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মাহলি। শামি সফরে থাকায় রোজা নাও রাখতে পারেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
এএনআইকে মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মাহলি বলেছেন, ‘রোজা রাখা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক, বিশেষ করে রমজান মাসে। যদিও আল্লাহ কোরআনে পরিষ্কার উল্লেখ করেছেন যে যদি কোনো ব্যক্তি সফরে যান বা অসুস্থ হন, তাহলে তিনি রোজা নাও পালন করতে পারেন। মোহাম্মদ শামি সফরে গেছে। তাই সে রোজা পালনে ছাড় পেয়েছে। কেউ তার দিকে আঙুল তুলতে পারবেন না। এ নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা উচিত নয়।’
এ দিকে শামির ভাই মোহাম্মদ হাসিব জানিয়েছেন, তার ভাই রোজা পালন করছেন। শুধু ম্যাচের দিন রোজা রাখছেন না শামি। হসিব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শামি নিয়মিত রমজান পালন করেন। ম্যাচের জন্য যে রোজা তিনি রাখতে পারেননি, পরে সেটাও তিনি পালন করে নেবেন।’
