২৮ জন আটক

নারী দিবসে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে জার্মান পুলিশের নির্যাতন

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৫, ১৯:৪১

জার্মানিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশ চলাকালীন নারী বিক্ষোভকারীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার (৮ মার্চ) দাঙ্গা পোশাক পরা অফিসাররা লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটাচ্ছেন। তারা নারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছেন, কিল ঘুষি মারছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল অফিসার একজন নারী বিক্ষোভকারীকে টেনে-হিঁচড়ে মাটিতে ফেলেন। এরপর তাকে শ্বাসরোধ করতে দেখা যায়।

ফুটেজটি ভাইরাল হলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিছু এক্স-ব্যবহারকারী পুলিশের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছেন, এগুলোকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাৎসি অনুশীলনের সাথে তুলনা করেন। আবার কেউ কেউ জার্মান কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেছেন।

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, জার্মান গণমাধ্যম এই ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নীরব রয়েছে। তবে দেশটির সংবাদমাধ্যম বিল্ড রোববার (৯ মার্চ) জানিয়েছে, বার্লিনের ক্রুজবার্গ জেলায় নারী দিবসের মিছিলের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনপন্থী একটি সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আয়োজকরা ইসরায়েল ও জার্মানির পতাকাসহ জাতীয় পতাকা না আনার পরামর্শ দেন। তবে ফিলিস্তিনের পতাকা রাখতে বলেন।

বিল্ডের ভাষ্য, বিক্ষোভকারীরা আরবিতে স্লোগান দিলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা বোতল ছুঁড়ে মারে এবং অফিসারদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বলে জানা যায়। এতে একজন অফিসার আহত হন।

বার্লিন পুলিশ তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। অফিসারদের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।

গত মাসে বার্লিনের কর্তৃপক্ষ 'জননিরাপত্তার' অজুহাতের কথা উল্লেখ করে বিক্ষোভ-সমাবেশে আরবি ভাষার স্লোগান এবং বক্তৃতার নিষেধাজ্ঞা দেয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য, সংগঠকদের নিশ্চিত করতে হবে যে, সমস্ত বক্তৃতা, সঙ্গীত এবং স্লোগান জার্মান বা ইংরেজিতে হচ্ছে।

গত ১৫ মাস ধরে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। প্রথমে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের বিরোধিতা করে এবং পরে যুদ্ধবিরতির পর গাজার পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য।

ইত্তেফাক/এসকে