চট্টগ্রাম ওয়াসার লাইন কাটা, বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৫, ১৬:০৫

চট্টগ্রাম নগরীতে বিদ্যুতের ভূর্গভস্থ কেবল স্থাপনের কাজ চলাকালে এবার সাগরিকা এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন কাটা পড়েছে। এতে দুদিন ধরে নগরীর বড় একটি অংশজুড়ে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। লাইন কাটা পড়ায় নগরীয় আগ্রাবাদ, হালিশহর, সিডিএ, দেওয়ানহাট ও কদমতলীসহ আশেপাশের এলাকার মানুষজন ভোগান্তিতে পড়েছেন। 

লাইনটি মেরামত করে পানি সরবরাহ করতে আরো দুইদিন সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার কর্মকর্তারা, সেক্ষেত্রে বুধবার (১২ মার্চ) পর্যন্ত পানি সংকট রয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন বলেন, শনিবার (৮ মার্চ) রাতে সাগরিকা এলাকায় কাজ চলছিল। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ কেবল বসানোর কাজের সময় ওয়াসার লাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হালিশহরে যে ট্যাঙ্কে রেখে আমরা পানি সরবরাহ করি লাইন কেটে যাওয়ার কারণে সেখানে পানি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে আগ্রাবাদ, হালিশহর, সিডিএসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াসা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, এই সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে হালিশহর এলিভেটেড ট্যাংক হয়ে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, পশ্চিম মাদারবাড়ি, হালিশহর, বড়পোল, ছোটপোল, বেপারীপাড়া, গোসাইলডাঙ্গা, পানওয়ালাপাড়া, পোস্তার পাড়, ধনিওয়ালা পাড়া, কদমতলী, হাজীপাড়া, শান্তিবাগ, মুহুরীপাড়া, পাহাড়তলী, ঈদগাঁ, দেওয়ানহাটসহ সংলগ্ন এলাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।

পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেকেই বোতলজাত ও জারের পানি কিনে দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বাজারে পানির সংকটও তৈরি হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ যেমন—খাবার রান্না, কাপড় ধোয়া ও গোসল করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মামুন হোসেন বলেন, রোববার (৯ মার্চ) সেহেরির জন্য ঘুম থেকে উঠে দেখি পানি নেই। এলাকার মানুষ কেউ জানে না কেন পানি আসছে না। ওই অবস্থায় কোন রকমে সেহেরি ও ফজরের নামাজ শেষ করেছি। কিন্তু আজকে পর্যন্ত এলাকায় পানি আসেনি। রমজানের দিনে এভাবে পানি ছাড়া থাকা যায় নাকি? এদিকে গরমও বাড়ছে। যেসব বাড়িতে ডিপটিউবওয়েল আছে তারা কোনভাবে চলছে। যাদের ওয়াসার পানি একমাত্র ভরসা তারা খুব বিপদে পড়ে গেছে। 

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওয়াসার পাইপ লাইন মেরামত করে পানি সরবরাহ করার দাবি জানিয়েছেন গোসাইলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন।

ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন বলেন, রোববার রাতভর কাজ করেছে আমাদের লোকজন। যেহেতু পাইপ লাইন মাটির নিচে তাই আগে সেটা এক্সপোজ করে কি ড্যামেজ হয়েছে সেটা দেখতে হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে মেরামতের চেষ্টা চলছে। তবে আরো দুইদিন সময় লাগতে পারে পুরো কাজ শেষ করতে। সেক্ষেত্রে বুধবারের আগে পানি সরবরাহ করা হয়ত সম্ভব হবে না। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করছিল। তাদের লোকজন আমাদের সবরকম লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছে মেরামতের জন্য। 

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের অনন্যা আবাসিক সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলাকালে ওয়াসার ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের সরবরাহ পাইপ লাইন ফেটে যায়।

তখন নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ, মাদারবাড়ি, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, ওয়াসার মোড়, জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেট, বায়েজিদ বোস্তামি, নাসিরাবাদ, মুরাদপুর, কদমতলী, বহদ্দারহাট, কুয়াইশ, জামালখান, চকবাজার, আন্দরকিল্লা ও সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সেবার প্রায় পাঁচদিন পর পানি সরবরাহ শুরু হয়। সবগুলো এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগে গিয়েছিল।

ইত্তেফাক/এমএস/এএম