নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৫, ১২:৫২

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে তাড়াশে খুঁটিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়দের বাধায় বন্ধ হয়ে গেছে ভবন নির্মাণকাজ। এদিকে নতুন ভবন নির্মাণের শুরুতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ খুঁড়ে মাটি নিয়ে বিদ্যালয়ের নিচু অংশে ফেলা হয়। যা এখনো ভরাট করে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও খুঁটিগাছা গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় খুঁটিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় কোটি টাকা। বিদ্যালয়ের অভিভাবক শিক্ষক সমিতির (পিটিএ) সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে । আমরা ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তদারক কর্মকর্তাকে অভিযোগ করেছি। পরে খুঁটিগাছা গ্রামের সাধারণ লোকজন নির্মাণকাজে বাধা দেয়। গত সোমবার থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে।'

দেশীগ্রাম ইউনিয়নের ছোট মাঝদক্ষিণা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও ছাদেক আলী নামে বিদ্যালয়ের দুই জন নির্মাণশ্রমিক বলেন, "নিম্নমানের ইট দিয়ে কিছু কাজ করা হয়েছে। লোকজন বাধা দিলে অবশিষ্ট ইট বিদ্যালয়ের পুরান ভবনের সামনে রেখে দেওয়া হয়েছে। বালুর মানও খুব খারাপ । ঠিকাদার খারাপ বালুর ওপর ভালো বালু ফেলেছে। আমরা খারাপ বালুর সঙ্গে ভালো বালু মিশিয়ে কাজ করছি।'

খুঁটিগাছা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্র শিহাব ইসলাম বলেন, তাড়াশ পৌর এলাকার কোথাও খেলাধুলার উপযুক্ত মাঠ নেই। প্রায় সব ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয় খুঁটিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। 

রমজানের ঈদের পরের দিন এক দিনের ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। গর্ত ভরাট করে না দিলে খেলাধুলা করা সম্ভব না এ মাঠে । খুঁটিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলিমা মোহন্ত বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজে অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। খেলার মাঠে গর্ত করে রাখা হয়েছে। ঠিকাদার ও তদারকি কর্মকর্তা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। পরে বিদ্যালয়ের পিটিএ সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সব কাজ ঠিকঠাক বুঝে নেওয়ার জন্য।

এ বিষয়ে তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী বাবুল আখতার বলেন, বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। মাঠের গর্ত ভরাটের জন্য মাঠ কমিটিকে ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে ঠিকাদারের। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন বলেন, “ইটের বিষয়ে জেনেছি। আমি কথা বলার পর নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।' 

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. ফজুলল হক বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হলে সেই অংশ ভেঙে ভালো ইট দিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ করা হবে। সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে বলে দিচ্ছি।

ইত্তেফাক/এএইচপি