মুরাদনগরে কলেজগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী সংকট

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ২১:০৫

মুরাদনগর উপজেলায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও উচ্চ মাধ্যমিকে (এইচএসসি) দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছে না। উপজেলার ১২টি কলেজের মধ্যে মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষায় অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি হলেও বিজ্ঞান বিভাগে চরম শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিটি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের জন্য শিক্ষা বোর্ড ১৫০টি আসন নির্ধারিত থাকলেও রামচন্দ্রপুর আব্দুল মজিদ ডিগ্রি কলেজ ছাড়া কোনো কলেজেই সেই আসন পূরণ করতে পারেনি।

উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, রামচন্দ্রপুর আব্দুল মজিদ ডিগ্রি কলেজে ৩২৪ জন, শ্রীকাইল সরকারি কলেজে ৫০ জন, মুরাদনগর কাজী নোমান আহম্মদ ডিগ্রি কলেজে ১০০ জন, কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজে ৮০ জন, বাঁশকাইট ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ডিগ্রি কলেজে ১১ জন, কোড়েরপাড় আদর্শ কলেজে ৮৩ জন, আলীরচর চাঁন মিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজে ২৬ জন, জাহাপুর কমলাকান্ত একাডেমি অ্যান্ড কলেজে ২৭ জন, চাপিতলা ফরিদউদ্দিন সরকার ডিগ্রি কলেজে ২৬ জন, হায়দরাবাদ সামছুল হক কলেজে ৩০ জন, দিঘীরপাড় বেগম সুফিয়া সওকত কলেজে ১৬ জন ও বাইড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১১ জন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে।

অন্যদিকে কয়েকটি কলেজ মানবিক বিভাগের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি করেছে। ঐ কলেজগুলোতে ছাত্রছাত্রীর একটা অংশ বিজ্ঞান শাখা পরিবর্তন করে সহজে পাশের জন্য মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষাকে বেছে নিয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি কমে যাওয়ার ব্যাপারে চাপিতলা ফরিদউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নার্গিস খানম চৌধুরী বলেন, আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ে অনেক স্কুলে বিজ্ঞানের ভালো শিক্ষক নেই। তাই শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে কোনো রকমে পাশ করে উচ্চ মাধ্যমিকে এসে আর সাহস করে না। আলীরচর চাঁন মিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে মানসম্মত শিক্ষক থাকলেও মাধ্যমিকে ভালো শিক্ষক না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভিতরে একটা ভয় কাজ করে, যে কারণে তারা গ্রুপ পরিবর্তন করে ব্যবসায় শিক্ষা অথবা মানবিকে চলে যায়।

মুরাদনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সফিউল আলম তালুকদার বলেন, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ধরে রাখতে হলে শিক্ষকদের আরো আন্তরিক হতে হবে। তাদের পড়াশোনার ভিতকে মজবুত করে বিজ্ঞানের প্রতি উত্সাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারলে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সময়ে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষকদের বলে থাকি তারা যেন বিজ্ঞানের প্রতি ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করেন।