মোবাইলে গেইম খেলতে না দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, ১৩ বছরের কারাদণ্ড কিশোরের

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৫, ২২:০০

মোবাইল দিয়ে অনলাইন গেইম ফ্রি ফায়ার খেলতে না দেয়ার কারণে নিজের বন্ধুকে হত্যা করেছে এক কিশোর। ২০২১ সালে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ঘটা এই হত্যার দায়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে পিরোজপুরের একটি আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত আবির হোসেন হাওলাদার ওরফে আবির হোসেন (১৭) উপজেলার নদমূলা গ্রামের কালাম হাওলাদার এর ছেলে। 

আবিরের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু আদালতের বিচারক মো. আসাদুল্লাহ পেনাল কোডের ৩০২ ও ২০১ ধারায় আবিরকে ১০ বছর ও তিন বছরের কারাদন্ড প্রদান করে। পাশাপাশি বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী আবিরের পিরোজপুর জেলের মাধ্যমে যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার আদেশ দেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নদমূলা গ্রামের লোকমান হাওলাদারের ছেলে এবং স্থানীয় মাঝি বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র শান্ত হাওলাদার (১৪) এর একটি স্মার্ট ফোন ছিল যা দিয়ে সে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে ফ্রি ফায়ার গেইম খেলত। তবে সাজাপ্রাপ্ত আবিরের কোনো ফোন ছিল না। তাই শান্তকে হত্যার এক মাস আগে আবির গেইম খেলার জন্য শান্তর কাছে তার মোবাইল ফোনটি চেয়েছিল। তবে শান্ত তা আবিরের কাছে দিতে না চাওয়ায় তাদের মধ্যে মারামারি হয়।

সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর একটি স্মার্ট ফোন দেখানোর কথা বলে আবির কৌশলে শান্তকে বাড়ির কাছে একটি বাগানে নিয়ে যায়। এরপর শান্তর কাছ থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে নালার মধ্যে ফেলে পানিতে চেপে ধরে শান্তর মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। এরপর শান্তর মরদেহটি সেখানেই নালার মধ্যে লুকানোর চেষ্টা করে।

এদিকে অনেক রাত পর্যন্ত শান্ত ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে। পরের দিন দুপুরে স্বজনরা শান্তর মরদেহ নালার মধ্যে দেখতে পেয়ে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় ওই দিন শান্তর বাবা লোকমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চার মাস পর তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবিরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে সব তথ্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে আদালত আবিরকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

ইত্তেফাক/এমএস/এএম