পঞ্চপাণ্ডব যুগের অবসান, ফেসবুকে বিদায় আর কতদিন 

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৫, ০৯:৩৬

গেল ১০ জানুয়ারি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে তামিম ইকবাল জানালেন, 'আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষ।' এরপরে ৫ মার্চ একই পথে হেঁটে ওয়ানডে থেকে বিদায় নিলেন মুশফিকুর রহিম। তাদের দেখানো পথেই হাঁটলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১২ মার্চ তিনিও ওয়ানডে থেকে বিদায় নিলেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। তারকা ক্রিকেটারদের এমন বিদায় নিয়ে কিছুটা অংক্ষেপ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ সুজন। যে মাঠ থেকে ক্রিকেটাররা ঝরিয়ার শুরু করেছিলেন, বিদায়টা সেখান থেকেই হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এদিকে তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেও পঞ্চপাণ্ডবের বাকি দুই তারকা মাশরাফি বিন মোর্তুজা ও সাকিব আল হাসান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে পঞ্চপাণ্ডব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব ও তামিম। এই তারকাদের পরে আর কাউকে এমনভাবে দেখা যায়নি। এর মধ্যে জাতীয় দলের জার্সিতে আর কখনো খেলা হবে না তামিম ও মাহমুদউল্লাহর। জাতীয় দল থেকে এই দুজনের বিদায়টা মাঠের বাইরেই হলো। মুশফিক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ছাড়লেও বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা চালিয়ে যাবেন। সেটিও হয়তো দীর্ঘ হবে না। এর বাইরে সাকিব মাঠ থেকে বিদায় নিতে চেয়েও পারেননি। জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার খ্যাত এই ক্রিকেটার। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে ওয়ানডেকে বিদায় বলতে চেয়েছিলেন এবং ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু কোনোটিই বাস্তবে রূপ নেয়নি। অন্যদিকে রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠা মাশরাফি এখনো অবসরের কথা জানাননি। 

গতকাল গণমাধ্যমে কথা বলেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর বিদায় নিয়ে বলেছেন, 'ওদের ক্যারিয়ারের যে সময়, দুজনেই বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হয়তো ওরা চাইলে আরো কিছুদিন খেলতে পারত। সেটা কতটা ভালো হতো, আমি জানি না। মাঠ থেকে বিদায় নিলে হয়তো আরেকটু ভালো হতো। মাহমুদউল্লাহ অবসর নিত, গ্যালারি ভরা দর্শক থাকত, মানুষের হাততালিতে বিদায় নিত, সেটা ওর জন্য বড় পাওয়া হতো। আমি জানি না, ওরা কেন মাঠ থেকে অবসর নিতে চায় না।' বিসিবির বিষয়ে তিনি বলেছেন, 'ওরা যদি বলত যে পরের সিরিজে অবসর নেব। তাহলে বিসিবি প্রস্তুতি নিতে পারে। ওরা যদি না বলে, বিসিবি বুঝবে কীভাবে। বিসিবিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।' 

এদিকে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেছেন, 'এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই বিষাদের একটা মুহূর্ত। প্রায় দুই দশক ধরে মাহমুদউল্লাহ জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন। তার ধারাবাহিকতা ও চাপের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা তাকে অমূল্য এক সম্পদে পরিণত করেছিল। খেলার প্রতি তার নিবেদন ও পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা মানদণ্ড তৈরি করেছে। তাদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পারফরম করার জন্য মাহমুদউল্লাহর আলাদা একটা সুনাম ছিল। ব্যাট অথবা বল হাতে, সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে তিনি পারফরম করেছেন। চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার মাথা ঠান্ডা রাখার গুণ ও মাঠে নেতৃত্বগুণ তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সম্মানিত ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।' 

বিসিবি সভাপতি আরও বলেছেন, 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত এক ক্যারিয়ারকে উদযাপন করি। একই সঙ্গে এত বছর দল এবং খেলার জন্য যে নিবেদন দেখিয়েছেন সেজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। এ বিষয়েও আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করে যাবে।'

ইত্তেফাক/কেএইচ