২০১৫ সাল থেকে সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলছেন জেসন রয়। এ ফরম্যাটে নিজেকে ইংল্যান্ডের অপরিহার্য বলে প্রমাণ করেছেন। বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি ম্যাচ অনুপস্থিত ছিলেন। তাতেই বিপাকে পড়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এতো কিছুর পরও টেস্ট খেলার সুযোগটা পাচ্ছিলেন না। অবশেষে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের জন্য ১৩ সদস্যের দলে ডাক পেয়েছেন রয়। আর এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ইংল্যান্ডের প্রধান নির্বাচক এড স্মিথ বলেছেন, রয় এখন অনেকটাই পূর্ণাঙ্গ এক জন ক্রিকেটার।
৮৪টি ওয়ানডে ও ৩২টি টি-টোয়েন্টি খেলা রয় সবকিছু ঠিক থাকলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠেও নামবেন। শুধু তাই নয়, অ্যাশেজের প্রথম টেস্টও খেলার কথা তার। এসব তথ্য জানাতে গিয়ে স্মিথ বলেছেন, ইনজুরির সমস্যা না থাকলে ভারতের বিপক্ষে গত গ্রীষ্মেই অভিষেক হয়ে যেত রয়ের।
অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ড লায়ন্সের খেলা দেখতে গিয়ে স্মিথ বলছিলেন, ‘জেসনের যে আমরা প্রশংসা করি, এটা কোনো গোপন ব্যাপার নয়। জেসন রয়ের ব্যাপারে বড়ো প্রশ্ন ছিল যে, কখন টেস্ট ক্রিকেট শুরু করা তার জন্য আদর্শ হবে? জো রুট ও আমি মাস খানেক আগে এটা নিয়ে কথা বলেছিলাম। তখনই আমরা কল্পনা করেছিলাম, বিশ্বকাপ শেষে ও রান করার আত্মবিশ্বাসে শক্তিশালী থাকবে। এ অবস্থায় অ্যাশেজ খেলাই ভালো হবে ওর জন্য। সেটাই হচ্ছে। এখন মনে হচ্ছেন, টেস্ট দলে এক জন ওপেনার হিসেবে রয়ের যোগ দেওয়ার এটাই আদর্শ সময়।’
অ্যালিস্টার কুকের বিদায়ের পর রয়ের জন্য ইংল্যান্ড একাদশে একটা জায়গা তৈরিই আছে। ৩৮ গড়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যাট করা সারের এ ব্যাটসম্যান দারুণ একটা বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন। তিনি এখন আছেন দারুণ ফর্মে। বিশ্বকাপে ৬০-এর ওপরে গড়ে রান করেছেন।
স্মিথ মনে করেন, কেবল সাদা বলের ক্রিকেটে নয়, এখন সব ধরনের ক্রিকেটেই নিজেকে মেলে ধরার সময় রয়ের, ‘আমি মনে করি, আমরা সবাই তাকে পরিণত হয়ে উঠতে দেখেছি। সেই সঙ্গে সে সাদা বলের ক্রিকেটে এক জন ক্রিকেটার হিসেবে অনেক উন্নতি করেছে। তার প্রতিভা নিয়ে, দৃঢ়তা নিয়ে বা উইকেটে দাপট নিয়ে কখনোই সন্দেহ ছিল না। আমি মনে করি, সে আগে যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক পরিণত এক জন ক্রিকেটার। আমার মনে হয়েছে, এটাই জেসন রয়ের টেস্ট অভিষেকের সবচেয়ে সঠিক সময়।’
