সরে যাচ্ছেন ইনজামাম

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ২১:১৭

অনুমান করা হচ্ছে যে, বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত ফল করতে না পারায় পাকিস্তান জাতীয় দল সংশ্লিষ্ট অনেকেই দায়িত্ব হারাবেন বা পদ ছেড়ে দেবেন। সেই তালিকায় প্রথম নাম লেখালেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক। গতকাল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানিয়ে দিলেন যে, চলতি মাস শেষে চুক্তি শেষ হওয়ার পর আর এই দায়িত্ব পালন করবেন না।

ইনজামাম বলেছেন, তিন বছর টানা দায়িত্ব পালন করার পর তিনি মনে করছেন, এই পদে এখন নতুন চিন্তা নিয়ে কারো আসা উচিত, ‘পাকিস্তান জাতীয় পুরুষ দলের নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর চুক্তি নবায়ন করবো না। সামনের সেপ্টেম্বরে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে, এরপর ২০২০ সালে আইসিসির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে এবং ২০২৩ সালে আইসিসির ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে। আমি মনেকরি, এটা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য নতুন একজন প্রধান নির্বাচক নিয়োগের সঠিক সময়। যিনি এই কাজে নতুন আইডিয়া ও সতেজ চিন্তা যোগ করতে পারবেন।’

ইতিমধ্যে নিজের এই সিদ্ধান্ত পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিম খানকে জানিয়ে দিয়েছেন ইনজামাম। তিনি মনে করেন, ২০১৭ সালে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তান অনেকদূর এসেছে। এখন তরুণ তারকাদের সময় এসেছে, এই দেশের ক্রিকেটকে আরো সামনে নিয়ে যাওয়ার, ‘মিসবাহ-উল-হক ও ইউনুস খানের মতো দুই কিংবদন্তীর বিদায়ের পর, ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানের ক্রিকেট অনেকদূর এসেছে। এখন তরুণ ক্রিকেটাররা পরিণত হয়ে উঠেছে। তাদের সামনে এখন আরো ভালো লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। তারা এখন তিন ফরম্যাটেই আরো ভালো করতে এবং ধারাবাহিকভাবে পারফরম করতে তৈরি।’

২০১৬ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজ শুরু করেন ইনজামাম। তিনি এর আগে ছিলেন আফগানিস্তান জাতীয় দলের প্রধান কোচ। সেখান থেকে এনে এই দায়িত্ব দেওয়ার পর ইনজামাম খুব ভালোভাবেই কাজটা সামলেছেন বলা যায়। তার হাত ধরে শুরু করা ফাখার জামান, হাসান আলী, শাদাব খান, ইমাম-উল-হক, ফাহিম আশরাফ ও শাহিন আফ্রিদি এখন দলের প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছেন। তার আমলেই পাকিস্তান ১৯৯২ সালের পর সবচেয়ে বড়ো ক্রিকেট সাফল্য পেয়েছে। ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে তারা। এই সময়ে তারা টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের এক নম্বরে উঠেছে।

ইনজামাম বলেছেন, তার এই সময়টা তরুণদের গড়ে তোলার ব্যাপারে খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, আমরা যখন দলটা পেলাম, তখন অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় তাদের ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে ছিল। আমাদের বেশ কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে নির্বাচন করতে হয়েছে। আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই ১৫ বা ১৬ জন খেলোয়াড় পাকিস্তানকে আরো ১০ থেকে ১৫ বছর সার্ভিস দেবে।’