টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বন্যাকবলিত মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বন্যার পানি প্রবেশ করে পৌরসভার টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ভেঙে পড়েছে। ভাঙনের কারণে বিদ্যালয় মাঠ পুকুরে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার তাড়াই এলাকার বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তীব্র স্রোতে নদীর পানি প্রবেশ করায় ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি বসতভিটা। এতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি লিকেজ হওয়ায় হুমকিতে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ রক্ষায় কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় গ্রামবাসী চেষ্টা করেও বাঁধটি রক্ষা করতে পারেনি।
উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি মাদরাসা ও ৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কথা জানালেও অধিকাংশ বানভাসি মানুষ ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে অর্জুনা ইউনিয়নের তাড়াই বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া ভাঙন অংশে পাউবো কাজ করছে।
আরও পড়ুন: সিংড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পরিস্থিতি শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
