সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বিবেচনা করিতে হইবে

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ২১:২৩

গতকাল এই বত্সরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হইয়াছে। এই বত্সর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে পাশ করিয়াছে ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। পাশের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাইয়াছে ৪১ হাজার ৮০৭ জন। কয়েক মাসের মধ্যে এই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হইবে। কেউ মেডিক্যাল কলেজে, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে, কেউ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা চালাইবে। কঠিন এই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি তাহারা ইতোমধ্যেই শুরু করিয়াছে। আমাদের দেশে এই ভর্তি পরীক্ষাগুলোর কাঠামো কয়েক রকম। যেমন, মেডিক্যাল কলেজগুলিতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হইয়া থাকে। একজন পরীক্ষার্থী একবার পরীক্ষায় বসিয়াই দেশের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়া থাকে; তাহাকে আর ভিন্ন ভিন্ন কলেজে গিয়া পরীক্ষায় অংশ লইতে হয় না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেও একটিই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হইয়া থাকে। ইহার ফলে পরীক্ষার্থীদের একই সঙ্গে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়; এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হইল সবগুলি মেডিক্যাল কলেজে তাহার অংশগ্রহণ করা হয়, কোথাও তাহার পরীক্ষা মিস হয় না। এই পদ্ধতি পূর্বে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধীনে কুয়েট, চুয়েট ও রুয়েটে (সেই সময় যথাক্রমে বিআইটি খুলনা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী নামে পরিচিত ছিল) চালু ছিল। বর্তমানে তাহা আর নাই। সমন্বিত এই ভর্তি পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এখনো চালু করা যায় নাই। ফলে পরীক্ষার্থীদের নানাবিধ ভোগান্তি পোহাইতে হয়। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা আবেদন করিতে হয়। এতে অর্থেরও প্রয়োজন হয়। আর সবচেয়ে মুশকিল হয় কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ লইতে। অনেক সময় দেখা যায় যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রহিয়াছে তার পরদিনই রাজশাহী বা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা রহিয়াছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা মিস করিয়া থাকে অথবা দীর্ঘ পথভ্রমণের ক্লান্তি লইয়া তাহাকে পরীক্ষায় বসিতে হয়। পাশাপাশি দেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ থাকায় সকল ভর্তি পরীক্ষা শেষ করিতে তিন-চার মাস লাগিয়া যায়। শেষদিকে যেসকল প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হয়, দেখা যায় তাহারা বাত্সরিক ক্যালেন্ডার ইয়ারেও পিছাইয়া পড়ে।

এই সকল সমস্যার সমাধান হইতে পারে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা । সমন্বিত পদ্ধতির পরীক্ষায় মূলত একই প্রশ্নপত্রে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা লওয়া হইয়া থাকে। এই বছর শাবিপ্রবি ও যবিপ্রবিতে একসঙ্গে একই প্রশ্নে, অর্থাত্ সমন্বিতভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হইয়াছে। কোনো শিক্ষার্থী শাবিপ্রবি কিংবা যবিপ্রবি দুইটির একটিতে কিংবা দুইটিতেই নিবন্ধন করিতে পারিবেন। এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে সিলেট কিংবা যশোর সুবিধামতো একটি স্থান বাছিয়া লইতে পারিবেন। ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমাইতে, পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে ও সার্বিকভাবে পরীক্ষা পদ্ধতি সহজ ও আধুনিক করিতে সকল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা লওয়া যায় কি না তাহা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়া দেখিতে হইবে।