রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে সংস্কৃতির বিকাশ খুবই জরুরি। আলোকিত সমাজই পারে মানবিক সমাজ গড়তে, একটি দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে। গ্রাম থেকে শহর, নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত প্রতিটি স্তরে সংস্কৃতির চর্চা যত বেশি হবে, সমাজও তত বেশি আলোকিত হবে। সামাজিক অবক্ষয় রোধে সংস্কৃতি হচ্ছে রক্ষাকবচ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় শিল্পকলা পদক ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে সাত গুণী শিল্পীকে শিল্পকলা পদক প্রদান করা হয়। পদকপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন- চারুকলায় অলকেশ ঘোষ, নাট্যকলায় ম. হামিদ, কণ্ঠসঙ্গীতে গৌর গোপাল হালদার, যন্ত্রসঙ্গীতে সুনীল চন্দ্র দাস, লোকসংস্কৃতিতে মিনা বড়ুয়া, নৃত্যকলায় শুক্লা সরকার ও আবৃত্তিতে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। পদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা সম্মানীর সঙ্গে স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে প্রতিনিয়ত আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভিনদেশি সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। তাই বিদেশি বা আকর্ষণীয় হলেই সবকিছু লুফে নেয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যতটুকু সামঞ্জস্য ততটুকুই গ্রহণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয়, বিজাতীয় ও অপসংস্কৃতির সবকিছু বর্জন করতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনের দর্পণ। সংস্কৃতি নিয়ে কেউ জন্মায় না। প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমে সংস্কৃতি অর্জন করতে হয়। একজন সংস্কৃতিবান কখনো সমাজের ক্ষতি করতে পারে না। তাই সমাজ থেকে পঙ্কিলতা দূর করতে সংস্কৃতিকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
দেশের শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজনদের অবদানকে সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ২০১৩ সাল থেকে ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান করে আসছে।
আলোচনা ও পদক প্রদান শেষে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
