রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারের আগে জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রিশান ফরাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে কোন জায়গা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে কথা বলেননি পুলিশ সুপার। এর আগে রিশানের বড়ো ভাই রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে রিশান। তারা দুই ভাই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডের সহযোগী। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই ভাইকে অংশ নিতে দেখা গেছে। নয়ন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গত ২ জুলাই নিহত হয়েছেন।
এছাড়া এই হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বী আকন ও সন্দেহভাজন আরিয়ান শ্রাবণ গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বরগুনার পুলিশ সুপার বলেন, ‘যারা হত্যাকারী ছিল তাদের সঙ্গে মিন্নি শুরু থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় অংশ নেন। এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগে এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই তিনি করেছেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিংও করেছেন।’
আদালতে ১০ আসামি স্বীকারোক্তিতে মিন্নির জড়িত থাকার কথা উঠে এসেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। তবে একটা বিষয় বলতে চাই, একাধিক আসামি আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মিন্নি নিজেও আমাদের কাছে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।’
মারুফ হোসেন বলেন, ‘এই মামলার বাদী যাদের হত্যাকারী দাবি করেছেন, আমরা কিন্তু রাতদিন জেগে থেকে তাদের অনেককে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ’
রিফাত খুন হওয়ার পরদিন তার বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় মামলা করেন। সেখানে ১ নম্বরে নয়ন, ২ নম্বরে রিফাত ফরাজী এবং ৩ নম্বরে রিশান ফরাজীর নাম ছিল। গতকাল রিশানকে গ্রেফতারের কথা জানাল পুলিশ। রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, তাদের মধ্যে আটজন এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সর্বশেষ রাব্বী ও শ্রাবণ জবানবন্দি দিয়েছেন।
রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। ঐদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
