যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে বিপত্সীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী ও পানি মাপক গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান এ তথ্য জানান। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী জেলাগুলোয় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ছয় জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণের অপ্রতুলতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, গো-খাদ্য সংকট বন্যার্তদের দুর্ভোগকে বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল জেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো রিপোর্টে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ছয় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা:পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের ২৫টি পয়েন্টে প্রধান নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে পারে। কিন্তু আগামী ৪৮ ঘণ্টায় যমুনা, গঙ্গা, পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। শীতালক্ষ্যার পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে। কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন: গাইবান্ধা রেল স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম জানান, গতকাল সকাল থেকে বিকল্প উপায়ে ট্রেন চলাচল করছে। গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেল স্টেশন থেকে সান্তাহার এবং গাইবান্ধা রেল স্টেশন থেকে লালমনিরহাট ও দিনাজপুরের মধ্যে ট্রেন চলছে। সান্তাহার-লালমনিরহাট রুটের গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত রেলপথের প্রায় ছয় কিলোমিটার ডুবে যাওয়ায় বুধবার থেকে এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ এবং জামালপুর-তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ট্রেন চলা বন্ধ রয়েছে।
দুই জনের মৃত্যু: গতকাল কুড়িগ্রামের উলিপুরের ধামশ্রেনী ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে কন্যা ববিতা খাতুন (১৬) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। সে ঐ গ্রামের বাবলু মিয়ার মেয়ে। একইদিন শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে মামুন নামে এক শিশু বন্যার পানিতে মারা গেছে। সে ধানসাইয়ের মীর্জা মিয়ার ছেলে।
এদিকে বন্যায় গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে বিপদে পড়েছে মানুষ। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি, গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণ বিভিন্ন স্থানে বিতরণ হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল কম। আবার অনেক দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো যায়নি ত্রাণ। গাইবান্ধা পুলিশ লাইন সংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন রাস্তা হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। চরাঞ্চলের গত দুই দিন চলে নৌ ডাকাতের উত্পাত। পাঁচ উপজেলায় প্রায় চার লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুড়িগ্রামে তীব্র ভাঙনের মুখে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ জেলায় ৫৭৮টি গ্রামের প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি। ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল। জামালপুরের সাতটি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৯টি ইউনিয়নসহ সাতটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে। সিরাজগঞ্জ সদরসহ কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালিতে বন্যার অবনতি হয়েছে। চৌহালিতে ভাঙন অব্যাহত আছে। টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
