১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। এ দিনে পাকিস্তানি হানাদারদের হটিয়ে বাঙালিরা ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা।
নিজ দেশে থেকে পরাধীনতার গ্লানি মুছে স্বপ্ন বুনে নতুন এক বাংলার। যেখানে থাকবে না কোনো জাতি, ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ বৈষম্য। জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই কাজ করবে নতুন এক বাংলা বিনির্মাণে। বিজয়ের এ পথচলায় কী ভাবছে বিভিন্ন পাবলিক
ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? তা নিয়েই কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাবনা তুলে ধরলেন— জয়নুল হক
সোনালি ইতিহাস জানা উচিত
আমাদের সবার উচিত দেশের ইতিহাস জানা। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অনেকেই আমাদের গৌরবময় সোনালি ইতিহাস ভালো করে জানেন না। সবারই উচিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশকে ভালোবাসা, দেশের জন্য কাজ করা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফসল এ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমরা বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। মুক্তিযুদ্ধকে জেনেছি ইতিহাস পড়ে, সিনেমা দেখে, দাদা-বাবার মুখ থেকে গল্প শুনে। তবে সাবধান! ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভুল ইতিহাস যেন চর্চা না হয়!
—রুমান হাফিজ (শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করা হোক
যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের বিনিময়ে এবং যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে আমাদের একটি স্বাধীন ভূখণ্ড উপহার দিয়েছেন, তাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে এখনো অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধারা আছেন যারা এসকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাই আমি বলব নতুন করে একটি পদক্ষেপ নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা এখনো মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
—মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ (শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করতে হবে
স্বাধীনতার অর্জনের অর্ধশতাব্দী অতিবাহিত হতে চলেছে, অথচ আমরা কি পেরেছি স্বাধীনতা উপভোগ করতে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে? স্বাধীনতাবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি বারবার দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল এবং আজও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে-স্বাধীনতার যুদ্ধের পিছনে মুক্তিযোদ্ধাদের কী উদ্দেশ্য ছিল? ত্রিশ লক্ষ শহীদের কাছে আমরা ঋণী, আমরা কি পেরেছি তাদের এই ঋণ পরিশোধ করতে? আসুন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে, দৃঢ়রূপে কাজ করি দেশমাতৃকার তরে।
—সাদিকুর রহমান (শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)।
লাখো বাঙালির সংগ্রামের ফল বাংলাদেশ
বহু মানুষের স্বপ্ন-সাধের দেশ এই বাংলাদেশ। যদি প্রশ্ন
ওঠে কার স্বপ্ন? কত মানুষের স্বপ্ন? তবে হাতের কাছে কাজ চালানোর মতো উত্তর মিলে যায়, সেই সব মানুষের, যারা
এর জন্য আন্দোলন চালিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন।
বিজয় দিবসে একাত্তরের সব অর্জন মস্তবড় প্রশ্ন হয়ে
পথরোধ করে দাঁড়ায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাতি ও ব্যক্তিজীবনে
কতটা টেকসই হলো? বিজয় দিবসের চেতনা ধারণ করে আমরা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে সচেষ্ট রাখব এই হোক
আগামীর অঙ্গীকার।
—সাবরিনা হক (শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)।
বিজয় দিবস আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা
এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া বিজয়ের আনন্দ
যেমন বেশি, ঠিক তেমনি দায়িত্বটাও অনেক বেশি। আর তাই এগিয়ে আসতে হবে তরুণদের। যারা প্রতিকূলতা কাটিয়ে
এগিয়ে যেতে পারে। দেশের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ
শুধু ১৬ ডিসেম্বরে আবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনে নিজ
কাজের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে
পারলেই ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্যে গড়ে তোলা যাবে একটি
সুন্দর বাংলাদেশ। বিজয়ের প্রেরণাই হোক আমাদের
এগিয়ে চলার মূল প্রত্যয়।
—উম্মেহ হাবিবা দীপ্তি (শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়)।
তরুণ হিসেবে দেশের উন্নয়নই হোক অঙ্গীকার
বিজয় দিবস যেন আনুষ্ঠানিকতা, পালা-পর্বণে,
উত্সবে-স্মরণে পালিত হওয়ার মধ্যে শেষ না হয়ে যায়।
শুধু আচারে নয়, চেতনায় ধারণ করতে সেই মৌলিক
আবেগকে, দেশ আমাদের কী দিয়েছে সেদিক না তাকিয়ে
আমরা কী দিতে পেরেছি ৩০ লক্ষ রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন এই ভূখণ্ডকে! তরুণ হিসেবে এই বিজয় দিবসে আমাদের
অঙ্গীকার ও প্রত্যয় হোক, ‘দেশের স্বেচ্ছাসেবক হয়ে দেশের
জন্য কাজ করে নতুন প্রজন্মকে একটা সম্ভাবনাময় শ্রেষ্ঠ
বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার’।
—আবু সালেহ শামীম (শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)।
