মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বাড়িতে প্রিপেইড মিটার লাগাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পল্লীবিদ্যুতের চার কর্মকর্তা-কর্মচারী। বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের উমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রীনগর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির ডিজিএম মিজানুর রহমান জানান, ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম লিপটনের বাড়িতে প্রিপেইড মিটার লাগাতে গেলে শ্রীনগর পল্লীবিদ্যুতের এজিএম আবুবকর সিদ্দিক, ইলেকট্রিশিয়ান মো. শরিফ, লাইনম্যান শামীম হোসেন ও স্টাফ এমরান হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে দুই জনকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, বাকি দুই জন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে শ্রীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, শ্রীনগরে পল্লীবিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বন্ধের দাবিতে গত ১৬ জুন সরকারদলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে গত ১৯ জুন শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাহী বি চৌধুরী, শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান মামুনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পল্লী বিদ্যুতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের অভিযোগ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হয় পল্লীবিদ্যুত্ গ্রাহক পর্যায়ে দুই মাস প্রিপেইড মিটার লাগাবে না। কিন্তু অভিযোগসমূহের সত্যতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি জানার জন্য শ্রীনগর, শ্যামসিদ্ধি, পাটাভোগ ও ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের বাড়িতে প্রিপেইড মিটার লাগানো হবে। আগামী ১ আগস্ট ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদে আরেক মতবিনিময় সভায় লাগানো মিটারগুলোর ত্রুটি বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। এরই অংশ হিসাবে বুধবার ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম লিপটনের বাড়িতে প্রিপেইড মিটার লাগাতে গিয়েছিল পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তারা। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইউনুচ আলী জানান, এ ঘটনায় শ্রীনগর থানায় মামলা হয়েছে।
