রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চেষ্টা চালাচ্ছে জাতিসংঘ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০৯

চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই সংকটের টেকসই সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে রোহিঙ্গা ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুর টেকসই সমাধানে মার্কিন কংগ্রেসকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উভয়কক্ষের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির প্রভাবশালী পাঁচ জন সদস্যের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এই অনুরোধ জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো জোরালো সহায়তা কামনা করেন। এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই সংকটের সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গুতেরেস রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণের উদারতা ও মানবিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিশ্বব্যাপী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করার বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের অংশগ্রহণ, উপস্থিতির অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ বিষয়ে জাতিসংঘে যে অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করবে তাতে অংশগ্রহণের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসচিবকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানান।

পাঁচ কংগ্রেস সদস্যের সঙ্গে বৈঠক

এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউএস সিনেটে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর (রিপাবলিকান) জেমস ই রিস, প্রভাবশালী সদস্য সিনেটর (ডেমক্র্যাট) বব মেনেন্ডেজ, প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ডেমক্র্যাট) ইলিয়ট অ্যাঙ্গেল, এশিয়া সম্পর্কিত সাব-কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ডেমোক্রেট) বব শারমেন এবং কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং-এর সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার প্রশাসন একটি জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূলের ষড়যন্ত্র করেছে এবং গণহত্যার সঙ্গে নিজেদের জড়িত করেছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিগত নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানরা মন্তব্য করেন। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদেরকে জানিয়েছেন যে, ৪১ হাজার পোলিং বুথের মধ্যে মাত্র ২১টিতে অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোর নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ড. মোমেন এ সময় পালটা তথ্য উপস্থাপন করে কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরদের জানিয়েছেন, ‘২০০৮ এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও নানা কথা রয়েছে।