চাকরি পেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত একটি পর্ব হলো ভাইভা। এই ধাপের পরেই নির্ধারণ হয় আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পাবেন কি-না। এজন্য ভাইভা ফেস ব্যাপারটা সব চাকরি প্রার্থীর জীবনে টেনশন বা চিন্তার বিষয় হিসেবে দেখা দেয়। তবে ভাইবা কোনো জটিল বা কঠিন বিষয় নয়। একটু সচেতনতা অবলম্বন করলে খুব সহজেই ভাইভা বোর্ডে ভালো করা যায়। ভাইভা বোর্ডে কিছু কমন বিষয় আছে যা ুপালন করলে পজিটিভ ফলাফল লাভ করা সম্ভব। সেগুলো নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন এ রুপম
পোশাক ও সাজ সজ্জা
ভাইবা বোর্ডে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে হবে। যেমন- পোশাক, সাজ-সজ্জা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রভৃতি। ছেলেরা হালকা এক রঙের বা স্টেপ ফর্মাল শার্ট এবং প্যান্ট, পায়ে ফর্মাল জুতা ও টাই পরবেন। তবে তীব্র গরমের সময় টাই নাও পরতে পারেন। আর শীতের সময় হলে স্যুট এবং টাই পড়া ভালো। মাথার চুল ছোট রেখে সুন্দর করে আঁচড়ে রাখবেন। পরিধেয় পোশাক স্বাভাবিক হতে হবে। হালকা পারফিউম ব্যবহার করতে পারেন। মেয়েরা যে কোনো হালকা রঙের শাড়ি পরতে পারেন। শাড়ি না পরে সালোয়ার-কামিজও পরতে পারেন। আর ওড়না পিনআপ অথবা মার্জিতভাবে রাখবেন। কড়া মেকআপ করবেন না। এতে নেতিবাচক হবে।
উপস্থিতি
ভাইবা শুরু হওয়ার কমপক্ষে আধ ঘণ্টা আগে অফিসে হাজির হতে হবে। ক্লান্তিভাব দূর করে নিজেকে শান্ত রাখবেন। আত্মবিশ্বাসী আর হাসিখুশি ভাব বজায় রাখবেন। আগের দিন রাতে অথবা সকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখবেন। কোনো পেপারের যেন ঘাটতি না থাকে।
ভাইভা বোর্ডে প্রবেশ
ভাইবা বোর্ডে ঢুকতে আপনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আপনার ডাক পড়া মাত্রই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে ভাইভা বোর্ডে প্রবেশ করতে এগিয়ে যাবেন। দরজার সামনে গিয়ে ঢোকার অনুমতি চাইবেন। অনুমতি পেলে ভেতরে প্রবেশ করে সালাম দিন। মুখে হালকা হাসি এবং চেহারায় আত্মবিশ্বাসী ভাব রাখুন। তবে চেহায় বোকা বোকা হাসি রাখবেন না। এরপর বসার অনুমতির জন্য অপেক্ষা করবেন। অনুমতি পেলে বসবেন। বসার সময় চেয়ার টানাটানি করবেন না। হাঁটার সময় যেন কোনো শব্দ না হয়। হাতের ফাইলটি সামনে রাখবেন। চেয়ারে হেলানসহ বসবেন না। পিঠ সোজা আর হাত দুটো পায়ের ওপরে রেখে মার্জিত হয়ে বসবেন।
প্রশ্নের মুখোমুখি
ভাইবা বোর্ডে বসার পরই আপনাকে প্রশ্ন করা হবে। শুরুতে সাধারণত ছোট-খাট প্রশ্ন করা হয়। যেমন- আজকের দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম, খেলার খবর, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ খবর। বাংলা সনের আজ কোন মাস বা বছর বা তারিখ ইত্যাদি। তারপর শুরু হবে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন। আপনার নিজের সম্পর্কে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। সবশেষে আপনাকে বুদ্ধিভিত্তিক প্রশ্ন করা হবে। বোর্ডে কোনো প্রশ্ন না পারলে আমতা-আমতা বা মনে পড়ছে না ভাব না করে সরাসরি বলে দিবেন; স্যার এ বিষয়টি আমার জানা নেই। ভাইভা বোর্ডে করা সব প্রশ্নের উত্তর আপনার না জানা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই প্রশ্ন শুনে ঘাবড়াবেন না বা বিচলিত হবেন না।
কথা বলার দক্ষতা
ভাইবাতে কথা বলার সময় বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় আপনার মাঝে যেন জড়তা না থাকে। ভাইবা বোর্ডে ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে প্রশ্নের উত্তরগুলো দেবেন। আঞ্চলিক ভাষা পরিহার করে আপনি শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করবেন। যখন প্রশ্নের উত্তর দেবেন তখন বডি ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। অর্থাত্ হাত-পা নেড়ে প্রশ্নের উত্তর বা কথা বলবেন না। আবার শরীর শক্ত করেও বসবেন না। শরীরের স্বাভাবিকতা বজায় রেখে জবাব দেবেন।
উত্তর দিবেন ইংরেজিতে নাকি বাংলায়
ভাইবা বোর্ডে ইংরেজিতে করা প্রশ্নের উত্তরগুলো ইংরেজিতে এবং বাংলাতে করা প্রশ্নের উত্তরগুলো বাংলাতে দেবেন। এটাই সঠিক উপায়। ইংরেজি ভাল বলতে না পারলে বাংলায় উত্তর করার জন্য অনুমতি নিয়ে বাংলায় উত্তর দেবেন। আর ওভার স্মার্ট দেখিয়ে ইংরেজির ঢালাও চর্চা করবেন না।
অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নয়
আপনাকে যেসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে তার বিষয়বন্তুর সঙ্গতি রেখে উত্তরই দেবেন। বেশি জানা থাকলেও দীর্ঘ উত্তর দিবেন না। ভাইভার সময়সীমা সাধারণত ২-২০ মিনিট স্থায়ী হয়ে থাকে। ভাইবা বোর্ডে বেশি প্রশ্ন করলে আপনি বিরক্ত হবেন না বা ভয় পাবেন না।
