বন্যা: রাণীনগরে বেরিবাঁধ ভেঙে তিন গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ১২:৫৯

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁর রাণীনগরের মালঞ্চি গ্রামের ছোট যমুনা নদীর প্রায় ৫০ হাত বেরিবাঁধ ভেঙে গেছে। শুক্রবার ভোর রাতে বেরিবাঁধ ভেঙে ৩টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

এতে চরম বিপাকে পড়েছে এই এলাকার বানভাসী মানুষরা। পানিতে তলিয়ে গেছে পুকুর, আমন ধান ও শতাধিক হেক্টর সবজির আবাদ। তবে ছোট যমুনা নদীতে পানির গতিবেগ কম থাকায়  প্লাবিত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি কম হবে বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসী।

গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খাঁন হাসান বলেন, আমার এলাকার ছোট যমুনা নদীর নান্দাইবাড়ি, মালঞ্চি, কৃষ্ণপুর ও আত্রাই উপজেলার ফুলবাড়ি বেরিবাঁধটি নির্মিত হওয়ার পর থেকে অভিভাবকহীন। কোন দপ্তর কোনদিন এই বাঁধটি সংস্কার করেনি। এমনকি এই বাঁধটিকে কোন দপ্তরই স্বীকার করে না। যার কারণে সংস্কার ও উন্নয়নের কোন প্রকারের ছোঁয়া এই বাঁধে কখনো স্পর্শ করেনি। এতে বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আজ বাঁধটির মালঞ্চি এলাকার কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে করে নদীর তীরবর্তি কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এই এলাকা সবজির আবাদের জন্য বিখ্যাত। আশঙ্কা করা হচ্ছে বন্যার কারণে এই এলাকা কয়েকশত পুকুর ও শতাধিক হেক্টরের সবজির আবাদ পানিতে তলিয়ে যাবে। এছাড়াও নওগাঁ-আত্রাই সড়কের বেশকিছু জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেইসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় স্থানীয়দের নিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে জনদুর্ভোগ

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ভেঙে যাওয়া অংশে নদীর পানিতে তেমন গতি না থাকায় বন্যাকবলিত এলাকা ছাড়া অন্যান্য ফসলের তেমন উল্লেখ্যযোগ্য ক্ষতি হবে না বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে প্লাবিত ৩টি গ্রামের সবজির আবাদ ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে। কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তাদের জন্য সহায়তা হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এছাড়াও ভেঙে যাওয়া অংশ বাঁধার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের উর্ধ্বতন কর্মর্কতারা বাঁধটি পরিদর্শন করে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এমআরএম