বরিশালে শেষ দিকে জমে উঠেছে ঈদ মার্কেট

৫শ’ কোটি টাকার বেচাকেনার আশা 

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫, ১৯:১০

রমজানের শেষভাগে এসে বরিশালে জমে উঠেছে ঈদের পোশাক বেচাকেনা। দেশি-বিদেশি পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ২৫ রমজানের পর থেকে বরিশালের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দোকান ছাপিয়ে সড়কের দু’পাশে পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দিন-রাত সড়কগুলোতে ভিড় সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঈদকে ঘিরে ক্রেতা সামাল দিতে চকবাজার এলাকার প্রধান সড়কে বন্ধ রাখা হয়েছে যানবাহন চলাচল।

সরেজমিনে নগরীর চকবাজার, কাটপট্টি, গীর্জা মহল্লাসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, কোটি কোটি টাকার নানান ডিজাইনের পোশাকের সমাহার। নগরীর চকবাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ জানান, শহরের পোশাকের তিনশো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রমজানের ঈদকে ঘিরে অন্তত ৫শ’ কোটি টাকা বেচাকেনা হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

ছবি: ইত্তেফাক  

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়ছে দোকান গুলোতে। ক্রেতাদের এমন ভিড়ে খুশি ব্যবসায়ীরা। তবে দাম কিছুটা বাড়তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতাদের একটি অংশ।

এবারের ঈদে বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় অরগেনজা, মেঘা, চান্দ্রিয়া, জয়পুরী ও পাকিস্তানি সারারা গারারা। এছাড়া, সাদা বাহার, আগানূর, চিকেনকারী, সুতির গর্জিয়েস, কাতান, বাড়িস, কারচুপি, বালাহার, মটকা ও কাশ্মীর কাতান থ্রি পিসের চাহিদা রয়েছে।

শাড়ির মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে—বি প্লাশ খাড্ডি বেনারসি, চেন্নাই সিল্ক, বুটিক, ক্রেসপি, মান্দানি ও জামদানি। ছেলেদের বিক্রি হচ্ছে পাঞ্জাবি, টুপি ও প্যান্ট। এছাড়া, কসমেটিক্স পণ্যের চাহিদাও কম নয়।

শিশু, তরুণ-তরুণী কারও জন্যেই হাজারের নীচে জুতা নেই ব্র্যান্ডের দোকানে। তাই অখ্যাত জুতার বাজারে ঘুরছে বেশিরভাগ ক্রেতা। এখানেও দাম চাহিদা অনুযায়ী বেশি বলে অভিযোগ তাদের।
 
মার্কেটগুলোতে পুরুষদের তুলনায় নারীদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। অপরদিকে বয়স্কদের চেয়ে তরুণ-তরুণীরা কেনাকাটায় বেশি ব্যস্ত। 

তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ভারতীয় পোশাক জিসা, হিরকানি, চকোর, ফিয়োনা, পাকিস্তানি লোন, কটন, জর্জেট, গাউন ড্রেস, শেরওয়ানি কাট থ্রি পিস—যা প্রকারভেদে দেড় হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শাড়ির মধ্যে ক্রেতারা পছন্দ করছেন টিস্যু সিল্ক, এম ক্রাফট, টাঙ্গাইলের শাড়ি, মিরপুরের কাতান ও ঢাকাই জামদানি শাড়ি। গতবারের তুলনায় এবার শাড়ির দাম বেড়েছে বলে জানান ক্রেতারা।

ঈদে কেনাকাটা করতে আসা সাবরিন আক্তার বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাক ও শাড়ির সমাহার ঘটেছে বটে, কিন্তু দাম অনেক বেশি হওয়ায় তা মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে। ভালো মানের শাড়ি ৬ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা, লেহেঙ্গা ২ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার ২০০ টাকা, লাসা ১ হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকা, পাঞ্জাবী ৮০০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা, প্যান্ট ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকা, ফতুয়া ৪৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, বিভিন্ন ধরনের শার্ট ৮৫০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা, জুতা এক হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, বাচ্চাদের বিভিন্ন পোশাক ৪০০ টাকার থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দরে পাওয়া যাচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী প্রিন্স জানান, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের দাম ততই বাড়িয়ে চলছে। এতে করে বাজেট ঘাটতির সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়তে হচ্ছে অনেককে। মনে হয় সারা বছরের ব্যবসা ঈদ মৌসুমেই করে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

শাড়ি বিতানের ম্যানেজার শামসুল হোসেন জানান, এ বছর ঈদে দেশীয় তৈরি জামদানি ও তাঁতের শাড়ির চাহিদা বেশি রয়েছে। দেশীয় তৈরি জামদানি ও তাঁতের শাড়ির কথা মাথায় রেখেই শাড়ির সমাগম করা হয়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর শাড়ির থেকে এ বছর দেশীয় শাড়ির চাহিদা বেশি।  

ইত্তেফাক/এসএএস