চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কাদা থেকে উদ্ধার করা সেই মা হাতিটি মারা গেছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটি মারা যায়।
প্রায় ৪০ বছর বয়সী মা হাতিটি অপুষ্টির কারণে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তার বাম পা অবশ হয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ‘২৫ মার্চ থেকেই মুখে খাবার খাচ্ছিল না হাতিটি। আমরা স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কাদায় আটকে পড়ে আহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি না পেয়ে আগে থেকেই খুবই দুর্বল ছিল।’
তিনি আরও বলেন, উদ্ধারের পর সে উঠে দাঁড়াতে বা বসতে না পারলে মোটামুটি খাবার খাচ্ছিল। কিন্তু তিন দিন খাবার না খাওয়ায় আরো দুর্বল হয়ে আজ দুপুর ১২টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।’
এর আগে গত ৫ মার্চ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জলদি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নাপোড়া বিটের গভীর বনে ঝিরির কাদায় আটকে পড়া বন্য হাতিটিকে উদ্ধার করা হয়। আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী মা হাতিটিকে ঝিরির পাশেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। উদ্ধারের পরদিন থেকে দোহাজারি সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জনের তত্ত্বাবধানে হাতিটির চিকিৎসা শুরু হয়। বন বিভাগের ১০-১২ জন কর্মী প্রতিদিন প্রায় চার কিলোমিটার পায়ে হেটে পাহাড় ঝিরি ডিঙিয়ে গভীর বনে গিয়ে হাতিটির পরিচর্যা করেছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোন উন্নতি লক্ষ করা যায়নি।
বনবিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানান, হাতিটির ওজন ২ টনের বেশি। দুর্গম বনের গভীরে হওয়ায় সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। দিনের বেলায় যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে রাতে ওই এলাকায় বন্য হাতির বিচরণ থাকায় সেখানে থাকা নিরাপদ ছিল না। তবু নানা কায়দায় হাতিটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি।
হাতিটির চিকিৎসা তত্ববধানের দায়িত্বে থাকা ডা. জুলকারনাই বলেন, উদ্ধারের পরদিন থেকে হাতিটিকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ড্রাগ দেওয়া শুরু হয়। ১২ তারিখ পর্যন্ত তার শারিরীক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। তবে, একজন আন্তর্জাতিক হাতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে তাকে ড্রাগ দেওয়া বন্ধ করার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। আমরা বিভিন্ন দেশের হাতি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের পরামর্শও নিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারলাম না।
