ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি, বেঁচে আছেন কি সু চি?

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৫, ১৫:৩৮

দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে শুক্রবার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। চার বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ, তীব্র খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক অবনতির মধ্যে মিয়ানমারে নতুন বিপর্যয় ডেকে এনে এই ভূমিকম্প। এতে তছনছ হয়ে গেছে মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বড় শহর। খবর পাওয়া যাচ্ছে বহু মানুষ হতাহতের।

আল জাজিরার প্রতিবেদন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। জরুরি অবস্থা জারি করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে জান্তা সরকার। এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সাবেক গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে উদ্‌গ্রীব তার সমর্থকরা।

অং সান সু চি ২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আটক রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসকে জানিয়েছে, মিয়ানমারের প্রাক্তন এ নেত্রী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। রাজধানী নেপিদওয়ের কারাগারে তিনি বন্দিবস্থায় সুস্থ রয়েছেন।

২০২৩ সালে তাকে কারাগার থেকে স্থানান্তর করে গৃহবন্দী করা হয়েছিল সু চিকে। কিন্তু পরে তাকে রাজধানীর কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে বিভিন্ন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করছেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্র ছিল দেশটির মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ১৭.২ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম কম্পনের ১২ মিনিট পর ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আফটার শক হয়। এসব তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস।

ভূমিকম্পে মিয়ানমারের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে থাইল্যান্ডে। দক্ষিণ-পশ্চিম চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে থাইল্যান্ডেও। ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়েছে বহু মানুষ। চলছে উদ্ধার অভিযান।

ইত্তেফাক/এমএএস