প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে হাট বসছে জুনে 

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৫, ১৪:১৭

ডেনমার্ক থেকে আসা জামাল ভূঁইয়া, কিংবা ফিনল্যান্ড থেকে আসা তারিক কাজীদের দেখে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশে আসেননি। তবে হামজা চৌধুরীকে বাংলাদেশে খেলতে আসা দেখে পৃথিবীর ভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী ফুটবলারদের বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তারাও লাল সবুজ রংয়ের জার্সিতে খেলতে চান। 

ইংলিশ লিগের শেফিল্ড ইউনাইটেডের ফুটবলার হামজা চৌধুরী বাংলাদেশে খেলে যাওয়ার পর ফুটবলে সাধারণ সমর্থকদের নজর আরও গভীর হয়েছে। হামজার জন্যই শেফিল্ডের খেলা দেখার আগ্রহ বেড়েছে। প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে বাফুফেরও আগ্রহ বেড়েছে, কেউ বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলতে চাইলে তাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। 

এ সপ্তাহে দুইজন ফুটবলার আসছেন বাংলাদেশে। এলমান মতিন আসবেন লন্ডন থেকে। আর আব্দুল কাদির আসবেন ইতালি হতে। দুজনই জুনিয়র ডিভিশনের ফুটবলার এবং তারা সিলেটের ছেলে। এই দুইজন আসবেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য। একটি সূত্রের দাবি ইতিমধ্যে কানাডা থেকে ফারহান এসেছেন বাংলাদেশে, ২০ বছর বয়সী ফারহান ওখানকার জুনিয়র লিগে খেলেন। তিনিও ট্রায়াল দেবেন। 

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সামিত সোম নামের আরও একজন কানাডিয়ান ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দলে ট্রায়াল দিতে পারেন। তার সঙ্গে বাফুফের যোগাযোগ হয়েছে। এ মিডফিল্ডার বাংলাদেশে আসবেন কিনা সেটি নিশ্চিত হয়নি বাফুফে। কারণ সামিত তার ক্লাব ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সময় নিয়েছেন। বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন সামিত একজন ভালো মানের ফুটবলার। তিনি বাংলাদেশ দলের জন্য ট্রায়াল দেবেন। 

ফাহাদ করিম বলেন, 'কানাডার টপ লিগে খেলেন সামিত সোম। সামিত তার পরিবার এবং ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবেন। সেখানে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে বাংলাদেশে আসতে পারেন। এজন্য সামিত সময় নিয়েছেন। আগামী এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে।' জুনে বাংলাদেশে-সিংগাপুর ম্যাচ ঢাকায়। তার আগেই আরও দুই-এক জনের বিষয়টা চূড়ান্ত করতে চায় বাফুফে। 

এছাড়াও জুনে এক দল প্রবাসী ফুটবলার বাংলাদেশে আসতে পারেন ট্রায়াল দেওয়ার জন্য। ডেনমার্ক থেকে উদ্যোক্তা সাকিব মাহমুদ প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে। নিজেকে লাইসেন্সধারী কোচ পরিচয় দিয়েছেন। বাসা বাফুফে ভবনের পেছনেই আরামবাগে। বাবা ঢাকায় থাকেন, মাকে নিয়ে সাকিব মাহমুদ ডেনমার্কের কোপেন হেগেনে বসবাস করছেন। প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে তিনি কাজ করছেন। বাফুফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। 

গতকাল ডেনমার্ক থেকে সাকিব মাহমুদ জানান, ২৭ জন ফুটবলার নিয়ে আগামী জুনে প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে ট্রায়ালের জন্য ঢাকায় আসবেন। তিনি বলেন, 'আমরা ট্রায়ালটা করতে চাই বাফুফের অধীনে। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারকে ট্রায়ালে রাখতে অনুরোধ করবো কারণ উনাকে ট্রাস্ট করা যায়।' 

প্রবাসী যারা আসবেন তারা অভিভাবক নিয়েই নাকি আসতে চান। ২১ জুনের পর সময় নির্ধারণ হবে কবে ট্রায়াল হবে তবে সাকিব জানিয়েছেন এক সপ্তাহের ট্রায়াল হবে। তিনি বলেন, 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি থাকবে। এমন একটা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ছেলেরা বাবা-মাসহ বাংলাদেশে আসতে চান।' 

বিভিন্ন দেশ থেকে ফুটবলাররা আসবেন। সাকিব জানিয়েছেন কেউ অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন। তারিখ নির্ধারণ হলেই ট্রায়ালের সময় চূড়ান্ত হবে।' সাকিবের দাবি এলমান ১ এপ্রিল ঢাকা আসবেন। আব্দুল কাদির ২ এপ্রিল ঢাকায় এসে ৩ এপ্রিল ট্রায়াল দেবেন। 

প্রবাসী নাবিদ আহমেদ, ফ্রান্সের ফারহান মাহমুদ, রিফাত খান, স্পেনের সৈকত বড়ুয়া, পর্তুগালের লিজান হাওলাদার, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আমির সামি, রাকিবুল, নাবিল নাসির, নাবিল রহমান, ঈমান আলম, ইবাহিম নেওয়াজ, শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ নবীর, ত্রেভোর ইসলাম, ইংল্যান্ডের করিম হাসান স্মিথ, আশিকুর রহমান, তোফায়ের তানিম, হারুন সালাহ, রিজওয়ান হুসাইন, আরিয়ান আমির, সামির খা, সুইডেনের নাভিদ ওয়ালিউল্লাহ, মাহী রহমান, ইতালির ইয়াসিন হোসেন, এস্তোনিয়ার ফারহান কালাম, অস্ট্রেলিয়ার সৈয়দ তায়সির আলমসহ অনেকেই বাংলাদেশে ট্রায়াল দিতে চাইছেন বলে ডেনমার্ক থেকে জানিয়েছেন সাকিব মাহমুদ। যদি এতো ফুটবলার নিয়ে ট্রায়ালের আয়োজন করা যায়, তাহলে সেটি হবে বাংলাদেশে প্রবাসী ফুটবলারদের জন্য প্রথম কোনো ট্রায়াল।

ইত্তেফাক/জেডএইচ