জিয়াউল হাসান সবুজ, সহকারী শিক্ষক গজালিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাগেরহাট
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে বাংলা বানানের বিভিন্ন নিয়ম প্রকাশিত হচ্ছে। আমরা বানানের কিছু গুরুত্বপূর্ণর্ নিয়ম জানানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি তোমরা নিয়মিত অনুসরণ করছো। এসো দেখে নেই আজকের নিয়মগুলো।
প্রমিত বাংলা বানানের নিচের নিয়ম দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিচের বানানগুলো আমরা বেশির ভাগ মানুষই সচরাচর ভুল করে থাকি।
নিয়ম: ০১
‘এ’ বাংলা বর্ণমালার অষ্টম স্বরবর্ণ। শব্দে ব্যবহারভেদে এই বর্ণটির দুটি উচ্চারণ রয়েছে। স্বাভাবিক উচ্চারণটি হলো ‘এ’। অপর উচ্চারণটি হলো ‘অ্যা’। ‘এ’ বর্ণের এই দুই ধরণের উচ্চারণ নিয়েই আজকের আলোচনা।
নিয়ম: বাংলায় এ বর্ণ বা এ-কার দিয়ে এ এবং অ্যা এই উভয় ধ্বনি নির্দেশিত হয়। যেমন: কেন, কেনো (ক্রয় করো); খেলা, খেলি;গেল, গেলে, গেছে; দেখা, দেখি; যেনো, যেন ।
তবে কিছু ুতদ্ভব এবং বিশেষভাবে দেশি শব্দ রয়েছে যে গুলির অ্যা-কার যুক্তরূপ বহুল পরিচিত। যেমন:ব্যাঙ, ল্যাঠা।
এসব শব্দে অ্যা অপরিবর্তিত থাকবে।
বিদেশি শব্দে ক্ষেত্র-অনুযায়ী অ্যা বা অ্যা-কার ব্যবহূত হবে। যেমন: অ্যাকাউন্ট, অ্যান্ড (and), অ্যাসিড, ক্যাসেট, ব্যাংক, ভ্যাট, ম্যানেজার, হ্যাট।
লক্ষ্য করো: নিয়মের শেষোক্ত অংশ অনুযায়ী ‘একাডেমি’ বানানটি হওয়া উচিত ‘অ্যাকাডেমি’। কিন্তু বাংলা একাডেমি নিজেই তাদের নামের বানানের ক্ষেত্রে এ নিয়মটির প্রয়োগ করে না। যদিও প্রমিত বাংলা বানানের একটি নিয়মে বলা হয়েছে “ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নাম এই নিয়মের আওতাভুক্ত নয়।” তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়; কারণ প্রতিষ্ঠানটি ‘একাডেমি’ বানানটি আগে ঈ-কার দিয়ে লিখলে ও বর্তমানে ই-কার ব্যবহার করে লিখে থাকে। অর্থাত্ বানানটি তারা আধা সংশোধিত করেছে।
নিয়ম: ০২
ং ও ঙ নিয়ে নিচের ছোট্ট নিয়মটি শিখে রাখো।
নিয়ম:শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে বা প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে অনুস্বার (ং) ব্যবহূত হবে। যেমন: গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং, আড়ং, ইদানীং, বরং, শিং, এবং, ফড়িং।
তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর, প্রত্যয় ও বিভক্তিযুক্ত হলে ঙ হবে। যেমন: বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের, রাঙিয়ে, আড়ঙের, ফড়িঙের,সঙের, ঢঙে, টঙে, লাঙলে, আঙুল।
বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।
লক্ষ্য করো: উপরের বানানগুলো বেশির ভাগ মানুষ বাঙ্গালি, ভাঙ্গা, রঙ্গিন, রঙ্গের, লাঙ্গল, আঙ্গুল অর্থাত্ ‘ঙ্গ’ যুক্তবর্ণ দিয়ে লিখে থাকে, যা সঠিক নয়।
নিয়ম: ০৩
আগের পবের্ অ তত্সম শব্দের বানানে শ, স ও ষ-এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজকে বল বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে আগত ইংরেজি শব্দগুলোতে শ ও স-এর মধ্যে কোনটি কখন ব্যবহূত হবে সে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো- ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ অনুযায়ী শ ও স-এর ব্যবহার হবে। এসো নিয়মটি শিখে নিই।
নিয়ম: ১. ইংরেজি ও ইংরেজির মাধ্যমে আগত বিদেশি s ধ্বনির জন্য স এবং s h, -sion, -ssion, -tion প্রভৃতি বর্ণগুচ্ছ বা ধ্বনির জন্য শ ব্যবহূত হবে। যেমন: পাসপোর্ট, বাস; ক্যাশ; টেলিভিশন; মিশন, সেশন; রেশন, স্টেশন।
উপরের নিয়মটি মনে রাখলে শ ও স-এর ব্যবহারে আর ভুল হবে না আশাকরি।
ইংরেজি ব্যতীত অন্যান্য বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে নিচের নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ।
২. যেখানে বাংলায় বিদেশি শব্দের বানান অপরিবর্তিত হয়ে স ছ-এর রূপ লাভ করেছে সেখানে ছ-এর ব্যবহার থাকবে। যেমন: তছনছ, পছন্দ, মিছরি, মিছিল।
নিয়ম: ০৪: এবার আমরা প্রমিত বাংলা বানানের ছোট্ট একটি নিয়ম শিখে নিই।
নিয়ম: ঊর্ধ্ব-কমা যথা সম্ভব বর্জন করা হবে। যেমন: বলে (বলিয়া), হয়ে, দুজন, চাল (চাউল), আল (আইল)।
লক্ষ্য করো: উদাহরণের শব্দগুলো আগে ঊর্ধ্ব-কমা দিয়ে লেখা হতো।
আরও লক্ষ্য করো: ‘ঊর্ধ্ব’ বানানটি কিন্তু বেশ কঠিন। এখানে যুক্তবর্ণটি হলো
র্ধ্ব = ধ+ব+রেফ।
আশা করছি এ ধরনের ভুল ও বিকৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে প্রথম থেকেই তোমরা সচেতন থাকবে।
(সূত্র: ভাষাশিক্ষা ও ব্যাকরণ-মাহবুবুল আলম, ভাষা প্রকাশ ব্যাকরণ ও রচনা -অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী )
আরও জানতে নিয়মিত চোখ রাখো বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন ফেইসবুক পেইজ গ্রুপে ও দৈনিক ইত্তেফাক এর অনুশীলন পাতায়।
