প্রাচীন ও ক্ষুদ্রতম চৌজা মসজিদ

ইমামসহ সর্বোচ্চ ৭ জন একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন যেখানে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩১

দেশের বিভিন্নস্থানে প্রাচীন অনেক মসজিদ থাকলেও সুলতানি আমলের স্থাপত্যরীতিতে তৈরি দেশের ছোট অথচ প্রাচীন মসজিদ রয়েছে । যে মসজিদের ভেতরে ইমামসহ মাত্র সাত জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। পুরোনো এই মসজিদের স্থাপত্যরীতিতে সুলতানি আমলের ভাবধারার ছাপ সুস্পষ্ট। মসজিদটি ঠিক কত সালে কে নির্মাণ করেছিলেন, সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চৌজা গ্রামে অবস্থিত দেশের অন্যতম ছোট ও প্রাচীন মসজিদ ‘চৌজা মসজিদ'। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। তবে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটির সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুলতানি আমলের স্থাপত্যরীতিতে তৈরি এই মসজিদটি অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষদিকে নির্মিত। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের আয়তন ১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থ। মসজিদের দেওয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৩ ফুট ৯ ইঞ্চি । মসজিদের মূল দরজাটির উচ্চতা ৫ ফুট এবং উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ছোট দুটি দরজার উচ্চতা ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। ২০০২ সালের ১৯ জুন চৌজা মসজিদকে ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মসজিদের ভেতরে ইমামসহ মাত্র সাত জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। তিনটি খিলান দরজা ও চার কোণে চারটি বুরুজ বা মিনার রয়েছে। মসজিদের মূল দরজা, উত্তর ও দক্ষিণের দরজা এবং মেহরাবের ওপরের অংশে মোট আটটি ছোট মিনার রয়েছে । মসজিদের তিনটি খিলান দরজার ওপরে চালা আকৃতির নকশা করা এবং প্রতিটি বুরুজ বা মিনারের নিচের অংশে কলস আকৃতির নকশা রয়েছে। মসজিদের প্রবেশ দরজার ওপর পাঁচটি কাঠি টাঙানো আছে, যা দেখে অতীতে নামাজের ওয়াক্তের হিসাব করা হতো।

চৌজা গ্রামের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, 'আমাদের বাপ-দাদারাও বলতে পারেননি এই মসজিদ কবে নির্মিত হয়েছে । এই মসজিদে স্থানীয় মুসল্লি ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে প্রতি জুমায় অনেকে নামাজ আদায় করতে আসেন। মসজিদের মূল অংশে মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ২০০৪- ২০০৫ সালের দিকে মসজিদের সামনের অংশের মেঝে পাকা করে সেখানে নামাজ আদায় করা হয়। ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে বর্তমানে এই মসজিদে প্রায় ১০০ জন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।'

১২ বছর ধরে চৌজা পুরাকীর্তি জামে মসজিদে ইমামতি করছেন হাফেজ রায়হান মণ্ডল । তিনি বলেন, চৌজা পুরাকীর্তি জামে মসজিদে জুমার নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। এই মসজিদের ভেতরের অংশে একজন ইমাম ও ছয় জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বিগত সময়ে মসজিদটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ২০০৪ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংস্কার করা হয়।

বর্তমানে মসজিদটিতে শ্যাওলা ধরে মসজিদটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া মসজিদটিতে অজু ও শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টোডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, চৌজা মসজিদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত একটি পুরাকীর্তি। প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা এটি। দেশের অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্রতম মসজিদ এটি । কিন্তু এত দিন এই মসজিদ দৃষ্টির আড়ালে ছিল ।

ইত্তেফাক/এনএন