আমরা থাকতে চাই সবুজের কাছাকাছি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ২০:৩৭

মো. জিল্ল­ুর রহমান

 

বৃক্ষ মানুষ ও পরিবেশের জন্য এক অমূল্য সমপদ। খাদ্য, বস্ত্র, পুষ্টি, বাসস্থান, ওষুধপত্র, অর্থের জোগানদাতা হিসেবে বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষা ও উন্নয়নে বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাণিজগতের অস্তিত্ব উদ্ভিদ জগতের ওপর নিভর্রশীল এবং এ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বৃক্ষরোপণ আমাদের গ্রিন হাউসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে, অক্সিজেন সরবরাহ করে, বাতাসের অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের মাধ্যমে পরিবেশ নিমর্ল রাখে, ক্ষতিকর দূষিত বাতাস শোধন করে জীবজগেক রক্ষা করে, সুশীতল ছায়া দেয়, মাটির ক্ষয় রোধ করে, মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে মাটির উবর্রতা রক্ষা করে, মাটিতে উপযুক্ত পরিমাণ পানি ধরে রাখে, জ্বালানি সরবরাহ করে, জীবন রক্ষাকারী মূল্যবান ওষুধের কাঁচামালের জোগান দেয়, বণ্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-ঝঞ্ঝা জলোচ্ছ্বাস বন্যা রোধ করে, বাড়ি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় শৌখিন ও মূল্যবান আসবাবপত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখে, লবণাক্ততা রোধ করে, মানুষের আপদকালে বিমাতুল্য কাজ করে, মাটির ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে নিয়ে মাটিকে বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার রাখে, বাতাস পরিষ্কার রাখে, বায়ুমণ্ডলের তাপ কমিয়ে আবহাওয়া ঠান্ডা রাখে, বায়ুদূষণকারী পদার্থ যেমন কাবর্ন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং গাছের পাতা ঝড়-বাতাসের গতিকে রোধ করে, বৃষ্টির সৃষ্টি করে ও মরুময়তা রোধ করে, প্রকৃতিকে মায়াময় ও সৌন্দর্যময় করে সাজিয়ে তোলে।

পর্যাপ্ত বনভূমি ও বৃক্ষ না থাকার কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে—তার মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা দিন দিন বাড়ছে, বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড বাড়ছে, জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ অনেক অনেক গুণ বেড়ে যাচ্ছে, বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে চলে আসছে। অ্যাসিড বৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মেরু অঞ্চল ও এন্টারটিকা মহাদেশের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

আমরা সকলে সবুজের কাছাকাছি থাকতে চাই। ইচ্ছে করলেই আমরা ইট-কংক্রিটে গড়া ঘরের ভেতর ও বাহির মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারি। অনেককেই বাসার বারান্দায়, সিঁড়ির পাশে, বসার ঘরে ইত্যাদি স্থানে গাছের টব রাখতে দেখা যায়। গাছপ্রেমীদের জন্য বর্তমান সময়টা খুবই উপযুক্ত সময়। নার্সারি থেকে পছন্দমতো গাছ সংগ্রহ করা যায়। ফুল, ফল, সৌন্দর্যবর্ধনকারী লতাগুল্ম, ঔষধি বৃক্ষ, বনসাইসহ নার্সারিতে পাওয়া যায় টব, কীটনাশক, জৈব সার, মাটি, উপকরণসহ গাছের পরিচর্যা বিষয়ক সবকিছু।

মে থেকে আগস্ট এই চার মাস গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। এ সময়ের মধ্যে গাছ লাগালে তা উপযুক্ত আবহাওয়ার মধ্যে বেড়ে উঠতে পারে। এ সময় গাছের দ্রুত বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টি ও আর্দ্রতা পাওয়া যায়। টবে বা বাগানে লাগানো চারাগুলো এ সময় সহজেই নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

আসুন আমরা সকলে গাছ লাগাই।

ঢাকা