চলতি বছরেই মার্কিন অর্থনীতি মন্দার মুখোমুখি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিল জেপি মর্গ্যান। সেই সঙ্গে দেশ জুড়ে বেকারত্বের পরিমাণও বেড়ে যাবে। মার্কিন অর্থনৈতিক সংস্থা জেপি মর্গ্যানের প্রধান অর্থনীতিবিদ মাইকেল ফেরোলি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট অভ্যন্তরীণ উত্পাদন (জিডিপি) সংকুচিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কারণেই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে চলেছে মার্কিন অর্থনীতি। যদি আমেরিকায় মন্দা হয়, সে ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। সারা বিশ্বে মন্দার আশঙ্কা ৬০ শতাংশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এ প্রসঙ্গে ফেরোলিকে উদ্ধৃত করেছে। তার কথায়, ‘শুল্কের চাপে আমাদের জিডিপি সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। গত বছর আমাদের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি বছরে আমরা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি আশা করছি না। যা আগের বছরের তুলনায় বেশ খানিকটা কম। আমেরিকায় বেকারত্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাসও দিয়েছেন ফেরোলি। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরে আমেরিকার অর্থনীতি মন্দার মুখোমুখি হলে বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে।
নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকার আমদানির পরিমাণ অনেক কম হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। তাদের পূর্বাভাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি কমতে পারে অন্তত ২০ শতাংশ। সার্বিকভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া, ট্রাম্পের নীতির ফলে অন্যান্য দেশ যদি মার্কিন পণ্যে পালটা শুল্ক আরোপ করে, সে ক্ষেত্রে রপ্তানির বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে চীন ৩৪ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করে দিয়েছে মার্কিন পণ্যের উপরে। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে মন্দার পূর্বাভাস দিল জেপি মর্গ্যান। তাদের পূর্বাভাস দিতে যেমন বেশি সময় লাগেনি তাদের, তেমনি মন্দা আসতে বেশি সময় নাও লাগতে পারে বলে তাদের পূর্বাভাস। মন্দা হলে তার সঙ্গে বেকারত্বও বাড়বে। এদিকে ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণার আগেই গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দেয়। তারাও মন্দার আশঙ্কা ২০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করে এবং তারা বলে, অর্থনীতির মৌলভিত্তিগুলো আগের বছরের মতো অতটা শক্তিশালী নয়। এদিকে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি জানিয়েছে, মন্দার আশঙ্কা নিয়ে আলাপ-আলোচনা আরো বাড়বে। কারণ শুল্ক ঘোষণার পর শেয়ারবাজার, বন্ড ও মুদ্রাবাজারের যে অবস্থা, তাতে মন্দার বাস্তবতা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এইচএসবিসির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, তারা শেয়ার বাজার পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই পর্যবেক্ষণ থেকে তারা বুঝতে পারছেন, বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে মনে করছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মন্দা আসার আশঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে এর মানে এই নয় যে, মন্দা নিশ্চিতভাবেই আসবে। গবেষণা সংস্থা যেমন বার্কলেস, বোফা গ্লোবাল রিসার্চ, ডয়েচে ব্যাংক, আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস ও ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানও সতর্কতা জারি করেছে। তারা বলছে, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি জারি থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন অর্থনীতির মন্দার কবলে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা এসেছে, তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের মুখোমুখি হবে। তবে কোনো দেশ যদি এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায়, সে পথও খোলা আছে। ট্রাম্পের এই শুল্ক সংক্রান্ত ঘোষণার পরই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। গত ১১ মাসে এই পরিমাণ ধস হয়নি। মাত্র দুই ধাপে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার সমপরিমাণ বাজার মূলধন কমেছে। শুল্ক আরোপের ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি অনেক কমে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পূর্বাভাস, আমদানি কমতে পারে অন্তত ২০ শতাংশ। সার্বিকভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।
