বরিশাল অফিস ও আগৈলঝাড়া সংবাদদাতা
বরিশালের বিভাগীয় বেবী হোমে আশ্রিত পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন কন্যা ফাতেমার দত্তক নিয়েছেন নিঃসন্তান এক প্রভাষক দম্পতি। আদালতের কাছে সন্তান দত্তক নেওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৭ জুলাই বরিশাল শিশু আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এক লাখ টাকা বন্ডে শিশুকন্যা ফাতেমাকে ঝালকাঠির বাসিন্দা ও বরিশালের একটি কলেজের ইসলামী ইতিহাসের প্রভাষক মু. নুরনবী সিদ্দিকী ও রেহানা আক্তার দম্পতির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলায় বিভাগীয় বেবী হোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ ও বরিশাল জেলা প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ সাড়ে ছয়মাস বয়সী শিশুকন্যা ফাতেমাকে মু. নুরনবী সিদ্দিকী ও রেহানা আক্তার দম্পতির কাছে হস্তান্তর করেন। শিশু ফাতেমাকে একজন কোরআনে হাফেজ বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দত্তক নেওয়া নিঃসন্তান এ দম্পতি।
চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলা সদরের কমলাপুর এলাকায় প্রসব বেদনায় ছটফট করা মানসিক ভারসাম্যহীন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। ঐদিন সন্ধ্যায় কন্যাসন্তান জন্ম দিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় মানসিক ভারসাম্যহীন ঐ প্রসূতি মা। অনেক খুঁজেও শিশুটির মাকে না পেয়ে অভিভাবকের দায়িত্ব নেন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।
হাসপাতালে চিকিত্সা শেষে ২৭ জানুয়ারি শিশুটিকে পটুয়াখালী সমাজসেবা অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিচয়হীন এই নবজাতকের পরিচয় নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় ওসি মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর মৃত মায়ের নামে শিশুটির নাম রাখেন “ফাতেমা রহমান।”
পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের হিসাব সহকারী সিদ্দিকুর রহমান ও হাসপাতালের একজন নার্স চলতি বছর ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু ফাতেমাকে আগৈলঝাড়ায় বিভাগীয় বেবী হোমে হস্তান্তর করেন।
