শেরপুর প্রতিনিধি ও শ্রীবরদী সংবাদদাতা
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ছোট বয়সা বিলটি সততা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি সরকারি নিয়ম অনুসারে ইজারা নিয়েও শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করতে পারছে না। ইতিমধ্যেই শেখদি মত্স্য সমিতি নামে একটি মহল কতিপয় বহিরাগত লোকজনের সহায়তায় ইজারা বিলের প্রায় এক চতুর্থাংশ জলাভূমিতে বাঁশের খুঁটি, বেড়া ও কারেন্ট জাল দিয়ে ঘিরে নিয়েছে। ফলে বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ও মাছের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মাছ চাষিরা।
সততা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইউসুব আলী বলেন, এ ব্যাপারে সততা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহাবুব বরাবর জবরদখলকারী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুন শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা দখলদারদের দুই দিনের মধ্যে বাঁশের খুঁটি, বেড়া ও জাল অপসারণের নির্দেশ এবং বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পরপরই ইজারা নেওয়া সমিতির লোকজনকে প্রতিপক্ষের লোকজন নানারকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং এখন পর্যন্ত বেড়া ও জাল অপসারণ করেনি।
অপরদিকে অভিযুক্ত আহসান উল্লাহ বলেন, বিলে তাদের নিজস্ব জমিতে বাঁশের খুঁটি ও জাল দিয়ে ঘের দিয়েছেন। কারণ বিলের মাছ তাদের ধান নষ্ট করে।
উপজেলা চেয়ারম্যান এ ডি এম শহীদুল ইসলাম জানান, সেখানে যেন কোনো অপ্রীতিকর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ না ঘটে সেজন্য বিলের ঘের সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো বিবাদী পক্ষ ঘের সরায়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে তিনি সমঝোতার চেষ্টা করবেন বলে জানান।
সততা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা জানান, ৩১ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় তারা ইজারা নিয়েও বিলে মাছ ধরা ও চাষ করতে পারছেন না। ফলে তাদের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেঁজুতি ধর জানান, যারা বৈধভাবে বিলটি ইজারা নিয়েছেন তাদের যেন ক্ষতি না হয় এবং আইনশৃঙ্খলারও যাতে অবনতি না ঘটে সে ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
