এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
সেতু নির্মাণের পর আড়াই বছর সময় পার হলেও শেষ হয়নি সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারববাকিয়া-রাজাখালী-মগনামা সংযোগ সড়কের করুণদশার কারণে বর্তমানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুইটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ ছাড়াও প্রতিদিন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শতশত শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
স্থানীয় এলজিইডির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে পেকুয়া উপজেলার বারববাকিয়া-রাজাখালী-মগনামা ইউনিয়নের একমাত্র সংযোগ সেতুুটি নির্মাণ করার কার্যাদেশ পান ফরিদুল আলম নামের এক ঠিকাদার। তিনি সেতুটির কাজ শেষ করে দুই পাশের সংযোগ সড়কটিতে ইট বসান। সেই সময় ঐ ইটের রাস্তা দিয়ে সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করতে পারলেও সংযোগ সড়কটির কিছু ইট খুলে যাওয়ার পর কার্পেটিংয়ের জন্য অর্থবরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর লিটন নামের অপর এক ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দিয়ে সেতুর সংযোগ সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। অভিযোগ উঠেছে, এক বছর সময় অতিবাহিত চললেও ঠিকাদার এখন পর্যন্ত সংস্কার কাজ শুরু করেনি। যার কারণে হাজার হাজার জনগণ ও শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বৃষ্টি হলে চলাচল বন্ধ থাকে এলাকাবাসীর।
এদিকে, জুলাই মাসের শুরুতে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে বেহাল সড়কটিতে চলাচলে দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এসময় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে নতুন ইট বসিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করেন। তবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বর্তমানে বসানো ইটগুলো উপড়ে যায়।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মাদু ও রাজাখালীর ইউপি অলী আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তিন ইউনিয়নের এলাকাবাসীর সুবিধার্থে সেতুটি করেন। বর্তমানে অসাধু ঠিকাদারের কারণে সেই সুফল ভোগ করতে পারছি না আমরা। আমরা সেতুটির সংযোগ সড়কটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এলজিইডির কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
জানতে চাইলে কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার লিটন বলেন, গত ছয় মাস আগে আমি সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছি। ইতিমধ্যে কাজ শুরু করতে কয়েকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মাটি না পাওয়ার কারণে কাজ এগিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সংযোগ সড়কটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে নিয়োজিত ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে সড়কের পাশে মাটি সংকট দেখা দিয়েছে। সেই কারণে নির্মাণকাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার।
