মোরেলগঞ্জে নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষক বদলির অভিযোগ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৯

বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

মোরেলগঞ্জে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষক বদলি করার অভিযোগ উঠেছে। আর এভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শিক্ষক বদলি করায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পাঠ কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নির্দেশিকা—২০১৯ অনুযায়ী যে সকল বিদ্যালয়ে চারজন বা তার কম সংখ্যক শিক্ষক আছেন সেসব বিদ্যালয় থেকে প্রতিস্থাপন না করে সাধারণভাবে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। তা সত্ত্বেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশীষ কুমার নন্দী ১৩৩নং ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২১৫নং সন্ন্যাসী বরিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করেন। এভাবে উপজেলার ১০টির অধিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিনি এভাবেই বদলি করেছেন বলে জানা গেছে।

২১৫নং সন্ন্যাসী বরিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা বলেন, আমার বিদ্যালয়ে মাত্র চারজন শিক্ষক ছিল। সেখান থেকে একজন শিক্ষককে তার পছন্দের জায়গায় বদলি করা হয়েছে। নিয়ম বহির্ভূত বদলির বিষয়টি আমি জেলা শিক্ষক কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো ফল পাইনি।

১৩৩নং ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমার বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে বদলি করেছেন।

বদলি করার সময়ে আমাকে বলেছেন আমার বিদ্যালয়ে আরেকজন শিক্ষককে দেবেন কিন্তু তিনি দেননি। ১৭১নং পূর্ব আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, আমার বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক ছিল। সেখান থেকে মিতা হালদার নামে একজন সহকারী শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষককে নিয়ে বিদ্যালয় চালাতে খুব সমস্যা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দি বলেন, শিক্ষকদের নিয়মের মধ্যেই বদলি করা হয়েছে। তারপরও জেলা কর্মকর্তার নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিন বলেন, বদলির বিষয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। মোরেলগঞ্জে সহকারী শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যার প্রেক্ষিতে ঐসব শিক্ষককে পূর্বের বিদ্যালয়ের বদলি আদেশ বাতিল করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।