স্বাভাবিকভাবেই ডার্বি ম্যাচে উত্তেজনা থাকে। মাঠের খেলা থেকে শুরু করে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মধ্যেও সেই আমেজ থাকে। রোববার ওন্ড ট্র্যাফোর্ডেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লড়াইয়ে ছিল টান টান উত্তেজনা। যদিও এই ম্যাচে ফলাফল হয়নি শেষ হয়েছে গোল শূন্য পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই।
তবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মাঠের বাইরে। তাতে করে গ্যালারি থেকে সিটির ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেনের মাকে অবমাননা করে স্লোগানও দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পরে ক্ষোভ জানিয়েছে সিটি বস পেপ গার্দিওয়ালা। এমন কাণ্ড ঘটানো সমর্থকদের ভদ্রতা ও জ্ঞানের অভাব রয়েছেও বলে মনে করেন তিনি।
ইউনাইটেডের মাঠে স্বাভাবিকভাবেই তাদের দাপট বেশি থাকবে হোক সেটা মাঠের খেলায় কিংবা সমর্থকদের। যদিও মাঠের খেলায় খুব বেশি কার্যকর দেখা যায়নি রেড ডেভিলসদের। তবে ম্যাচ শেষে ইউনাইটেডের একাংশ সমর্থকরা সিটির ফরোয়ার্ড ফোডেনের মা সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করে, যা নিয়ে পরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিটি কোচ।
ম্যাচ শেষে গার্দিওয়ালা বলেন, 'তাদের ভদ্রতার অভাব। তবে এটা ইউনাইটেডের নয়, এটা কিছু মানুষের সমস্যা। ফুটবলে আমরা সবাই প্রকাশিত, আমাদের সব কিছু সবাই জানে, ম্যানেজার, খেলোয়াড়, মালিক সবার। ফিলের মাকে জড়ানো, এটা একেবারে উচিত নয়। সত্যি বলতে, ফিলের মাকে নিয়ে কথা বলা লোকদের মানসিকতা আমি বুঝতে পারছি না। এখানে সততা ও ভদ্রতা জ্ঞানের অভাব রয়েছে। তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। এদের লজ্জা পাওয়া উচিত।'
যদিও ম্যাচের পর প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ফোডেন ব্যঙ্গাত্মকভাবে ইউনাইটেড সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে হাততালি দিচ্ছেন এবং তাদের কণ্ঠে তাল মেলানোর ভঙ্গি করছেন। এই মৌসুমে নিজের সেরা ফর্মে নেই ফোডেন। গত মৌসুমে তিনি ৫৩ ম্যাচে ২৭ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট করেছিলেন, কিন্তু চলতি ২০২৪/২৫ মৌসুমে এখন পর্যন্ত করেছেন মাত্র ১০ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট। গত পরশুর ম্যাচেও নিলেন নিষ্প্রাণ।
ফোডেনের সম্প্রতি পারফরম্যান্স নিয়ে গার্দিওয়ালা বলেন, 'ফিলকে আমি প্রতিদিন অনুশীলনে দেখি। ওর মুখে হাসি, ওর প্যাশন এগুলোই আমি চাই। পারফরম্যান্সে তার প্রভাব কমেছে, কিন্তু এটা শুধু ফিল নয়, পুরো দলই এবার পিছিয়ে। গোল আর অ্যাসিস্টের দিক থেকে সবাই পিছিয়েছে। তবে গুণগত দিক এখনো রয়েছে। ক্যারিয়ারে এমন সময় আসে। গত মৌসুমে সে ছিল লিগের সেরা খেলোয়াড়, আর সে আবারও ফিরবে।'

