বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের বড়লেখার মুড়াউল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া সত্ত্বেও মো. সাহাব উদ্দিন নামে এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী প্রার্থী, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন মুড়াউল আইডিয়াল ইয়ুথ সোসাইটির পক্ষ থেকে আলাদা আলাদাভাবে গত বুধবার বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুড়াউল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ পরীক্ষা গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী তিন প্রার্থীর মধ্যে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সাহাব উদ্দিন। নিয়োগ কমিটি এদিন তাঁকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্কুল পরিচালনা কমিটিকে সুপারিশ করেন। কিন্তু স্কুল পরিচালনা কমিটি কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গত ৬ জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় তাঁর নিয়োগ অনুমোদন না করে নানা টালবাহানা শুরু করেন। এমনকি ঐ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের জন্য রেজুলেশনও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অধীর দেবনাথ শুক্রবার বলেন, ‘সাহাব উদ্দিন পরীক্ষায় পাশ করেছেন। আমিসহ সবাই সুপারিশ করেছি। তবে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ সংক্রান্ত সভায় সর্বসম্মত না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক প্রার্থী মো. সাহাব উদ্দিনের নিয়োগ অনুমোদন করা যায়নি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য ও নিয়োগ কমিটির সদস্য মো. আশিক উদ্দিন বলেন, ‘সাহাব উদ্দিনকে নিয়োগের জন্য আমরা সুপারিশ করেছি। পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমিটির সভা ডেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই রেজুলেশন বইতে স্বাক্ষর করি। কিন্তু সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাদের অগোচরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে মর্মে রেজুলেশন খাতায় লিখে রাখেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমি ও পরিচালনা কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য নাসির উদ্দিন রেজুলেশন খাতা দেখতে যাই। এ সময় প্রধান শিক্ষক বলেন, খাতাটি তিনি বাসায় রেখে এসেছেন।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নিয়োগ কমিটির প্রধান আব্দুল আহাদ বলেন, ‘সাহাব উদ্দিন সাহেব পরীক্ষায় প্রথমও হয়েছেন। উনার সব কাগজপত্র ঠিক আছে। কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশও করেছি। তবে পরিচালনা কমিটির সভায় উনাকে পছন্দ না করায় নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি ট্রেনিং-এর জন্য ঢাকা যাচ্ছি। ঢাকা থেকে এসে কমিটির সভাপতিসহ সকলকে নিয়ে বসে জানব কি কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান মুঠোফোনে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।’
