এএফপি
ইরাকের কুর্দিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে তুরস্ক। বুধবার সেখানে এক তুর্কি কূটনীতিক হত্যাকাণ্ডের জবাবে বৃহস্পতিবার এ হামলা চালানো হয় বলে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকর বলেন, ‘ইরবিলে শয়তানি হামলার পর আমরা কান্দিলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছি।’ এ হামলাকে ‘পিকেকে সন্ত্রাসী গ্রুপকে মোকাবিলায় বড় আঘাত’ বলে দাবি করেন হুলুসি আকর। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তুরস্কের বিমানবাহিনীর সদস্যরা কুর্দিস্তানে হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন স্থাপনা ও অস্ত্রগুদাম গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা একেবারে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে এবং আমরা আমাদের শহীদদের প্রতিশোধ নেব।’ তুর্কি কূটনীতিককে হত্যার পর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন টুইট করেছিলেন, ‘এই হামলায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।’
তুর্কি সীমান্তবর্তী ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী ইরবিলের তুর্কি কনস্যুলেটের উপপ্রধান গত বুধবার একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাত্ তিনজন বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তুর্কি কূটনীতিক ও একজন ইরাকি নাগরিক নিহত হন, আহত হন আরেক ইরাকি নাগরিক। এখন পর্যন্ত কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এ হামলার পেছনে তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) হাত থাকতে পারে বলে তুর্কি কর্তৃপক্ষের ধারণা। কুর্দিস্তানের ওয়ার্কার্স পার্টিকে আঙ্কারা একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করে।
তুরস্কের সঙ্গে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির (কেডিপি) ভালো রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে আঞ্চলিক সরকারের নেতৃত্বে রয়েছে দলটি। পিকেকেকে সমূলে উত্খাত করতে গত মে মাস থেকে পার্বত্য উত্তরাঞ্চলে স্থল ও বিমান হামলা চালিয়ে আসছে।
