তথ্য গোপন করায় ফাইনালে বাদ ঠাকুরগাঁও
স্পোটস রিপোর্টার
কমলাপুর স্টেডিয়ামে জেএফএ কাপ (অনূর্ধ্ব-১৪) ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর। দলটি টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে ময়মনসিংহ জেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নির্ধারিত সময় ছিল গোল শূন্য।
রংপুরের সাথে ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ঠাকুরগাঁওয়ের। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের চার খেলোয়াড়ের বয়স বেশি, সেমিফাইনালে পরাজিত ময়মনসিংহের এমন প্রতিবাদ টিকে গেলে দলটি বাদ পড়ে। এসব কারণে ফাইনাল দেড় ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় এবং এজন্য পুলিশি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়ে।
বাফুফের দেয়া সিদ্ধান্তে ময়মনসিংহ টিকে গেলে মাঠের মাঝখানে অবস্থান নেয়া ঠাকুরগাঁওয়ের খেলোয়াড়রা খেলা হতে দেবে না জানিয়ে কান্নাকাটি করছিল। সংবাদমাধ্যম এগিয়ে গেলে মেয়েরা দাবি করে তাদেরকে ফাইনাল হতে বঞ্চিত করা হয়েছে। সবার একটাই কথা তারা ফাইনালে উঠেছে কিন্তু খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। ময়মনসিংহকে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের খেলোয়াড়দের দাবি, সেমিফাইনালে ময়মনসিংহ হেরে গিয়ে চার ফুটবলারের বয়স বেশি বলে অভিযোগ করে। তাহলে খেলোয়াড়রা এতদিন খেলে আসল কিভাবে। বাফুফে জানিয়েছে, সেমিফাইনালের পর হেরে যাওয়া ময়মনসিংহ প্রতিবাদে জানায় ঠাকুরগাঁওয়ের চার ফুটবলার আগেও জেএফএ কাপ ফুটবল খেলেছে দুইবার করে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড় দুইবারে বেশি খেলতে পারবেন না। এজন্য ময়মনসিংহকে ফাইনালে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়।
কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে আসতে রাজি হচ্ছিল না। পুলিশ কোচ এবং ম্যানেজারকে পাঠান এবং অনেক সময়ক্ষেপণের পর খেলোয়াড়দের ফিরিয়ে আনা হয়। পরে অবশ্য রংপুর এবং ময়মনসিংহের মধ্যে ফাইনাল শুরু হলে দর্শকরাও খেলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
মাঠে থাকা বাফুফে ও এএফসির মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘কেউ নিয়মের বাইরে গিয়ে খেলতে পারবে না। নিয়ম হচ্ছে জেএফএ কাপ ফুটবলে একজন খেলোয়াড় দুইবার খেলতে পারবে। তৃতীয় বার খেলার সুযোগ থাকে না। ময়মনসিংহের আনা প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ের চার খেলোয়াড় এরই মধ্যে দুই বার টুর্নামেন্ট খেলেছে। সেই প্রমাণ বাফুফের কাছে তুলে ধরা হয় এবং বাফুফে কাগজ-পত্র ঘেটে দেখে প্রমাণ পেয়েছে।’
এদিকে জেএফএ কাপ ফুটবলে ফাইনালে ময়মনসিংহ জিততে পারেনি বলে ঠাকুরগাঁও জেলার খেলোয়াড়রা দারুণ খুশি। কান্না থামিয়ে তারা হাততালি দিয়ে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানায়।
