নানা কর্মসূচিতে হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ২১:২৭

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রয়াত লেখকের ভাইবোন, শ্বশুর এবং নুহাশপল্লীর কর্মচারী ও অসংখ্য হুমায়ূনভক্তসহ হিমু পরিবহনের সদস্যরা কবর জিয়ারত, দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করেন। পরে তারা প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

কর্মসূচির মধ্যে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে হুমায়ূন আহমেদের শ্বশুর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী ও নুহাশপল্লীর কর্মচারীরা কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং হুমায়ূনের কবর জিয়ারত করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রয়াত লেখকের ছোট ভাই কার্টুনিস্ট এবং মাসিক উন্মাদের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আহসান হাবীব, তার স্ত্রী আফরোজা আমিন, বোন সুফিয়া হায়দার, রোকসানা আহমেদ, অভিনেতা সৈয়দ হাসান সোহেল প্রমুখ লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত দর্শনার্থী এবং হুমাযূনভক্ত নুহাশপল্লীতে দল বেঁধে আসতে থাকেন। বিকালের দিকে        নুহাশপল্লীতে মানুষের ঢল নামে। মৃত্যুবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং সৃজনশীল প্রকাশক ও পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি, শিখা প্রকাশনীর প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাহার, ইউনিভার্সেল একাডেমির শিহাব উদ্দিন ভুঁইয়া এবং অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজাহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন। শাওনের বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, তার মেয়ে চলচ্চিত্র বিষয়ক ৬ মাসব্যাপী এক প্রশিক্ষণ নিতে মে মাস থেকে আমেরিকায় থাকায় কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেনি। তবে সে নিউ ইয়র্কে স্বামীকে নিয়ে আয়োজিত একটি স্মরণসভায় যোগ দেবে।

হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে মরণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গৌরীপুরে হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি পরিষদের’ উদ্যোগে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনে মিলাদ মাহফিল, দোয়া, আলোচনা সভা, হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিরক্ষা ও তার নামে ট্রেনের নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। বৃহস্পতিবার একই দাবিতে গৌরীপুর ইউএনও ফারহানা করিমের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রেরণ করে সংগঠনের নেতারা।